রকমারি : পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি ফটিকছড়ির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে। এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিলোমিটার। যার মধ্যে ২৯ কিলোমিটার অংশ সারা বছর বড় নৌকা চলাচলের উপযোগী থাকে। এটি পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখানে রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে এবং নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। হালদা নদী কেবল প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ঐতিহ্য নয়, এটি ইউনেস্কোর শর্ত অনুযায়ী বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যেরও যোগ্যতা রাখে। প্রতি বছর হালদা নদীতে একটি বিশেষ মুহূর্তে ও বিশেষ পরিবেশে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ ও কার্প জাতীয় মা মাছ প্রচুর পরিমাণে ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার বিশেষ সময়কে বলা হয় তিথি। মা মাছরা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত শুধু অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে অনুক‚ল পরিবেশে ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার এই বিশেষ সময়কে স্থানীয়রা বলে ‘জো’। এই জো-এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা হতে হবে। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হতে হবে। এই বৃষ্টিপাত শুধু স্থানীয়ভাবে হলে হবে না। তা নদীর উজানেও হতে হবে। ফলে নদীতে পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়। এতে পানি অত্যন্ত ঘোলা ও খর¯্রােতা হয়ে ফেনাকারে প্রবাহিত হয়। জো-এর সর্বশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নদীর জোয়ার-ভাটার জন্য অপেক্ষা করা। পূর্ণ জোয়ারের শেষে অথবা পূর্ণ ভাটার শেষে পানি যখন স্থির হয় তখনই কেবল মা মাছ ডিম ছাড়ে। হালদা নদীর বাঁকগুলোকে বলা হয় ‘অক্সবো’ বাঁক। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পানির প্রচণ্ড ঘূর্ণির ফলে বাঁকের কাছে গভীর স্থানের সৃষ্টি হয়। একে বলা হয় ‘কুম’ বা কুয়া। উজান থেকে আসা বিভিন্ন পুষ্টি ও অন্যান্য পদার্থ এই কুমের মধ্যে এসে জমা হয়। ফলে পানি অতি ঘোলা হয়। মা মাছরা তখন কুমের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে ডিম ছাড়ে। হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছের ডিম ছাড়ার কারণ প্রধানত ৩টি। এগুলো হলো- ভৌতিক, রাসায়নিক ও জৈবিক। ভৌতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- নদীর বাঁক, অনেকগুলো নিপাতিত পাহাড়ি ঝরনা বা ছড়া। প্রতিটি ছড়ার উজানে এক বা একাধিক বিল, নদীর গভীরতা, কম তাপমাত্রা, তীব্র খর¯্রােত এবং বেশি ঘোলাত্ব। রাসায়নিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- কম প্রবাহ, সহনশীল দ্রবীভূত অক্সিজেন ইত্যাদি। জৈবিক কারণগুলো হচ্ছে- বর্ষার সময় প্রথম বর্ষণের পর বিল থাকার কারণে এবং দুক‚লের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীর পানিতে প্রচুর জৈব উপাদানের মিশ্রণের ফলে পর্যাপ্ত খাদ্যের প্রাচুর্য থাকে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে হালদা নদীতে অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রুই জাতীয় মাছকে বর্ষাকালে ডিম ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করে, যা বাংলাদেশের অন্যান্য নদী থেকে আলাদা। হ ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj