রোহিঙ্গা সংকট : আজ বিদেশি ক‚টনীতিকদের অবহিত করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা জানানোর জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন আজ ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রী মূলত রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ও তৎপরতার বিষয়ে ক‚টনীতিকদের ব্রিফ করবেন। এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার ও সিভিল সোসাইটিকে সম্পৃক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কনসাল জেনারেলদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব, জাপানসহ কয়েকটি দেশ সফর করে এসেছেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে ওআইসির সম্মেলনে তিনি রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন। এবারের সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) উত্থাপনের জন্য ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন চেয়েছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলাপকালেও তাদের সহযোগিতা চান। তাছাড়া দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ায় বাংলাদেশ এখন কি অবস্থার মধ্যে আছে- এসব বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করবেন।

উল্লেখ্য, ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার ও সিভিল সোসাইটিকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এই চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের অনারারি কনসাল জেনারেল এবং বিদেশে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেলদের চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বোঝা বাংলাদেশ বহন করতে পারবে না। যুগের পর যুগ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও দুর্দশাগ্রস্ত এই জনগোষ্ঠীর অবস্থান এ দেশে দীর্ঘায়িত হলে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরসহ ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের মতো মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসরণ করে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য দৃশ্যমান সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারের ব্যর্থ এবং চরম অনাগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। এই কারণে এখনো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরসহ ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের মতো দ্বিপাক্ষিকভাবে এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এই চুক্তি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তারপরও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসরণ করে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য দৃশ্যমান সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারের ব্যর্থতা ও অনাগ্রহই বারবার প্রকাশ করেছে। মিয়ানমারের চরম অনাগ্রহের কারণে এখনো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বদেশে প্রত্যাবাসন শুরুর কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যেই আছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj