ওবায়দুল কাদের : ঐক্যহীন ঐক্যফ্রন্ট আমরা চাই না

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা প্রয়োজন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যহীন ঐক্যফ্রন্ট আমরা চাই না। সংসদের ভেতরে এবং বাইরে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল আমরা চাই। কারণ শক্তিশালী বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য শুভ। গণতন্ত্রের স্বার্থেই তাদের মধ্যে সমন্বয় হোক, ঐক্যবদ্ধ হোক। এটিই আমাদের প্রত্যাশা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের যৌথসভা শেষে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথসভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণের মেয়র সাইদ খোকন উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের চেয়ে তাকে নিয়ে রাজনীতি করতেই বেশি ব্যস্ত অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বারবার বিদেশিদের কাছে ধরণা দিচ্ছে। কিন্তু বিদেশিরা কখনো বলেনি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য খারাপ। তারা বলেছে, বন্দি অবস্থায় চিকিৎসা যেন ভালো হয়। চিকিৎসা তো ভালো হচ্ছে। এ ছাড়া ডাক্তারদের পক্ষ থেকে তো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ সময় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকার কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে নেই বলেও জানান তিনি।

শপথ নেয়ার পরপরই বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বর্তমান সংসদকে অবৈধ বলাকে কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তার সাহসের প্রসংশা করি যে, তিনি সংসদে এসেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম তো পাস করেও আসেননি। সংসদে এসে সংসদের বিরুদ্ধে বলুক, সরকারের বিরুদ্ধে বলুক- এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সংসদ সদস্য হয়ে কিভাবে এই সংসদকে অবৈধ বললেন এর মীমাংসা সংসদেই হবে।

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি : সভায় মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ২৩ জুন সূর্যোদয়ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সারা দেশের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন। বেলুন ও পায়রা অবমুক্ত। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। একইদিনে সকাল সাড়ে ৯টায় টুঙ্গিপাড়ায় কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। ২৪ জুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা ও তৃণমূলের প্রবীণ নেতাদের সম্মাননা জানানো হবে।

২৫ জুন মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরে হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণিকা, ক্রোড়পত্র এবং পোস্টার প্রকাশ করা হবে। রাজধানীতে সীমিত আকারে সাজসজ্জা করা হবে।

ওবায়দুল কাদের জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশের জেলা, উপজেলা, মহানগরে সভা সমাবেশ, সেমিনার, র‌্যালি, স্মরণিকা প্রকাশ এবং রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj