প্রশাসন নির্বিকার : ধলেশ্বরী দখল করে চলছে রাস্তা নির্মাণ

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের সুদক্ষিরায় আবারো শুরু হয়েছে নদী দখল। প্রশাসনের নাকের ডগায় ডরিন পাওয়ার কোম্পানি ধলেশ্বরী নদীর বিশাল অংশজুড়ে বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তারা নদী দখল করে রাস্তা নির্মাণ করছে। অপরদিকে উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলছেন, শুধুমাত্র বিআইডব্লিউটিএ থেকে সাময়িক অনুমতি নিয়ে তারা এ কাজ করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনের বাধায় ডরিন কোম্পানি ধল্লা এলাকায় ধলেশ্বরী নদী দখল করে পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে গেলে পিছু হটে। সম্প্রতি ওই কোম্পানি অবস্থান পরিবর্তন করে ভাষা শহীদ রফিক সেতুর দক্ষিণ পাশে সুদক্ষিরায় মৌজায় আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমিতে নর্দান পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণকাজ শুরু করে। নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানটির কাজের ভাগবাটোয়ারা নিয়েও স্থানীয় দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, দ্রুত এগিয়ে চলছে পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ। এর পাশেই রয়েছে আবাসিক এলাকা, বাজার ও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নদীর মাঝ বরাবর বিশাল অংশজুড়ে ফেরির ভেতর রাখা হয়েছে মেশিনারিজ মালামাল। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব পাশে মালামাল ওঠা-নামার জন্য ধলেশ্বরী নদী দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে রাস্তা। ইতোমধ্যেই রাস্তার দুপাশে বালু ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদীর ভেতর দৃশ্যমান রাস্তা দেখে মনে হবে যেন কোনো আঞ্চলিক মহাসড়ক। রাস্তাটির পাকাকরণ কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী দখল করে রাস্তা নির্মাণের শুরুতে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দিলেও এখন কুলুপ এঁটে বসে আছে। সূত্রমতে, নদী দখল কিংবা সরকারি জায়গায় মাটি কাটা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিলেও প্রকাশ্যে নদী দখল করে এ রাস্তা নির্মাণের ব্যাপারে দেখা গেছে তার বিপরীত চিত্র। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ফৌজদারি মামলাসহ নেয়া হয়নি কোনো আইনগত ব্যবস্থা। নদীর দখলদার অভিযুক্ত ডরিন গ্রুপের নর্দান পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী মোস্তফা মঈনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাক্ষাৎকার নেয়ার প্রয়োজন নেই, যা ইচ্ছা লিখে দেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হামিদুর রহমান নদী দখল করে রাস্তা নির্মাণকাজের শুরুতে বাধা দেয়ার কথা দাবি করে বলেন, আমার জানামতে, বিআইডব্লিউটিএ থেকে ছয় মাসের অনুমতি নিয়ে নদীতে রাস্তা নির্মাণ করছে নর্দান পাওয়ার। তবে অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমত উল্লাহ বলেন, এটা আমার জানা ছিল না। সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানিকগঞ্জের আরিচা বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক শেখ মো. সেলিম রেজা বলেন, হেড অফিস থেকে সাময়িকভাবে ভারী মেশিনারিজ মালামাল ওঠা-নামানোর জন্য নদীতে জেটি করে তারা রাস্তা নির্মাণের অনুমতি নিয়েছেন। কাজ শেষে নিজেরাই নির্মিত রাস্তা ভেঙে দেবেন।

এ ব্যাপারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, বিআইডব্লিউটিএ কোনোভাবেই নদী দখল করে রাস্তা নির্মাণের অনুমতি দিতে পারে না। যেহেতু বিষয়টি আমি জানলাম, খতিয়ে দেখব।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj