কমছে না করপোরেট কর : বাড়ছে না ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : আসছে বাজেটে কমছে না বহুল আলোচিত করপোরেট করের হার। করপোরেট করের পাশাপাশি ব্যক্তি-শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমার হারও বাড়ছে না। চলতি বছরের বাজেটে যা ছিল নতুন অর্থবছরের বাজেটেও তাই থাকছে। অর্থমন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (কর ও প্রশাসন) বলেন, কর ব্যবস্থা সহজীকরণ করা হচ্ছে। ঢালাওভাবে করপোরেট কর কমানো কিংবা বাড়ানো হচ্ছে না। তবে দুয়েকটা জায়গায় ছোটখাটো পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, ইফেক্টিভ করপোরেট ট্যাক্স (কর যোগ্য ব্যক্তির তালিকা অনুসারে) হওয়ার কথা ১০ শতাংশ। আর আমাদের আসছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো ৬ শতাংশ মানুষ করপোরেট কর দেয় না। আমরা ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কর যোগ্য ব্যক্তিদের করের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছি।

ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা করা এবং করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব জানিয়েছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই), আইনজীবী, পেশাজীবী এবং অর্থনীতিবিদরা।

এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, গত ৪ বছর ধরে ব্যক্তি আয়করসীমা একই রাখা হয়েছে। অথচ এই সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে এটি আড়াই লাখ টাকা রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই এটি বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হোক। মহিলা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

করপোরেট কর কমানোর দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করা ও পুঁজিবাজারের অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ও নন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে সাড়ে ৩২ শতাংশ করা উচিত।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট কর সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত নয় এমন বিদেশি কোম্পানির প্রত্যাবাসনযোগ্য মুনাফার ওপর করপোরেট কর ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাবও এনবিআর ও অর্থমন্ত্রণালয়কে দিয়েছেন এফবিসিসিআই।

অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করপোরেট কর ও ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো উচিত। তিনি বলেন, করপোরেট করে হার কমালে ব্যবসায়ীরা কর দিতে উৎসাহিত হবেন। করও বেশি দেবেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রাক বাজেট আলোচনায় এবারের বাজেটে করপোরেট করের হার কমানোর আশ^াস দিয়েছিলেন অনেকবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এখানে হাত দেননি।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj