প্রচণ্ড দাবদাহ : পাইকগাছায় জ্বরের প্রকোপ

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

তৃপ্তি রঞ্জন সেন, পাইকগাছা (খুলনা) থেকে : প্রচণ্ড দাবদাহে খুলনার পাইকগাছায় হঠাৎ করে জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ঈদের পর থেকে উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কেউ না কেউ মারাত্মক জ্বর, মাথাব্যথা ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। জ্বরের সঙ্গে রয়েছে প্রচণ্ড গাব্যথাও। হঠাৎ জ্বরের রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় প্যারাসিটামল গ্রুপের (বিশেষ করে) সিরাপের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।

জানা গেছে, ঈদের পর থেকে উপজেলায় ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বড়রাও বাদ পড়ছে না এই জ্বরের হাত থেকে।

বয়োবৃদ্ধরা জানান, এক সময় মানুষের শরীরে জ্বর ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রিতে থাকত। কিন্তু এখন ভাইরাসজনিত যে জ্বর হচ্ছে তা ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওষুধ খেলে জ্বর সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে। কিন্তু একেবারে সেরে যাচ্ছে না। অ্যান্টিবায়োটিকে তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না বলেও অনেকে জানিয়েছেন।

সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এস এম মোস্তাফিজুর রহমান পারভেজ জানিয়েছেন, ঈদের দিন থেকে তিনি ও তার ছেলে মারাত্মক জ্বর নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। জ্বরে মারাত্মক গাব্যথা হচ্ছে। বিছানা থেকে ওঠার মতো অবস্থা থাকছে না। জ্বর সেরে যাওয়ার পর শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। গা-মাথা খুব ঘুরাচ্ছে। কোনো কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। খাবার দেখলে রাগ হচ্ছে। অথচ পেটে খুব ক্ষুধা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাফিকুল ইসলাম শিকদার জানান, বহিঃবিভাগে যেসব রোগী আসছে তার প্রায় অর্ধেক জ্বরে আক্রান্ত রোগী। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম মারুফ হাসান জানান, প্রচণ্ড দাবদাহে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম ঝরছে। ঘাম শরীরে বসে ঠাণ্ডার কারণে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে সবাই। এ ছাড়া ভাইরাসের কারণেও জ্বর হচ্ছে।

উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, প্রখর রৌদ্রে যতদূর সম্ভব কম চলাফেরা করতে হবে। শরীরে ঘাম হলে সঙ্গে সঙ্গে তা মুছে ফেলতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। এ ছাড়া লেবুর রস ও শরবত বেশি বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জ্বর এলে পানি দিয়ে গা বারবার মুছতে হবে এবং গোসল করতে হবে।

ফার্মেসি মালিক পঙ্কজ কুমার জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ ভায়েল প্যারাসিটামল সিরাপ বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির উপজেলা সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, হঠাৎ করে জ্বরের রোগীর সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে শিশুদের প্যারাসিটামল গ্রুপের সিরাপের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj