কেমন করে এল বাবা দিবস

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

বাবা। জীবনের সবচেয়ে ভরসা ও ছায়ার নাম। পরম নির্ভরতার নাম। সন্তানের জন্য কী-ই না করেন তিনি! ছোট কিংবা বড় সব বয়সেই সন্তানের জন্য বাবার ভালোবাসা অসীম। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ^ব্যাপী পালন করা হয় ‘বাবা দিবস’। সে হিসেবে আগামী ১৬ জুন বিশ^ বাবা দিবস। ওই দিন নিশ্চয়ই বাবার সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাবে তুমি। ফুল, কার্ড বা পছন্দের কোনো উপহার দিয়ে নিশ্চয়ই তাকে চমকে দেয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু কোথা থেকে বা কবে থেকে বাবা দিবস পালনের সূচনা, তা কি জানো?

বাবা দিবসের সূচনা হয়েছিল গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটন নামের এক আমেরিকান নারীর হাত ধরে। তিনিই প্রথম দিনটি পালনের জন্য আবেদন জানান। ক্লেটনের মাথায় ধারণাটি আসে ১৯০৭ সালে। সে বছর ডিসেম্বরে ভার্জিনিয়ার মোনোংয়াতে ভয়াবহ খনি বিস্ফোরণে প্রাণ হারান সাড়ে তিনশোর বেশি পুরুষ। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন সন্তানের বাবা। ফলে প্রায় এক হাজার শিশু বাবা হারায়। এসব শিশুর বেদনা পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টবাসী ক্লেটনকেও পীড়া দেয়।

স্থানীয় মেথোডিস্ট গির্জার যাজককে খনি বিস্ফোরণে শহীদ বাবাদের সম্মানে ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই (রবিবার) বাবা দিবস হিসেবে উৎসর্গ করার অনুরোধ জানান তিনি। ৫ জুলাইকে বাবা দিবস করার দাবি জানানোর কারণ, সে দিন ছিল ক্লেটনের বাবার জন্মদিন। তবে তার বাবা বেঁচে ছিলেন না।

বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে ভূমিকা রেখেছেন আরো এক নারী। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস পালিত হতো না, শুধু মা দিবস পালিত হতো। এ অবস্থায় বাবা দিবস পালনের আবেদন জানিয়ে তিনি স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সোনোরা স্মার্টও নিজের বাবার জন্মদিনের দিন (৫ জুন) বাবা দিবস পালন করার অনুমতি চান। তবে হাতে সময় কম ছিল বলে ওই বছরের ১৯ জুন সেখানে প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয়।

১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিনের তালিকায় তুলতে একটি বিল উপস্থাপন করা হয়। ১৯১৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বিলটি অনুমোদন করেন। সাত বছর পর, ১৯২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০তম প্রেসিডেন্ট কেলভিন ক্যুলিজ বাবা দিবসকে জাতীয় দিবসের মর্যাদা দেন।

১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন রাষ্ট্রীয়ভাবে জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস বলে ঘোষণা করেন। সেই সময় থেকেই বিশ্বের সব বাবার সম্মানে প্রতি বছর পালিত হচ্ছে বাবা দিবস।

:: শাহীদ হাসান

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj