শেয়ার কিনতে শুরু করেছেন বিদেশিরা

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : মার্চ ও এপ্রিল টানা দুই মাস শেয়ার বিক্রির পর আবার মে মাস থেকে শেয়ার কিনতে শুরু করেছেন প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তারা বিদায়ী মাসে এপ্রিলের তুলনায় ২৬ কোটি টাকার বেশি শেয়ার কিনেছেন। তাতে বিদেশিদের মোট লেনদেনও বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, মে মাসে ২১ কার্যদিবসে মোট ৭ হাজার ৭১৬ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার ২৩ টাকার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশিদের লেনদেন হয়েছে মাত্র ৭০৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। তার মধ্যে শেয়ার কিনেছেন ৩১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার। তার বিপরীতে শেয়ার বিক্রি করেছেন ৩৮৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর আগের মাস এপ্রিলে বিদেশিরা ২৫৭ কোটি ৪ লাখ ২১ হাজার ৩৪৩ টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৪১১ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৯০২ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। সেই মাসে বিদেশিদের মোট লেনদেন হয়েছিল ৬৬৮ কোটি ২৭ লাখ ২৬ হাজার ২৮৫ টাকা।

এর আগের মাস মার্চে বিদেশিরা ৩৭৫ কোটি ২৪ লাখ ১৭ হাজার ৯৪০ টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৪৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ৬ হাজার ৮৭০ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। সে মাসে বিদেশিদের মোট লেনদেন হয়েছিল ৮৭৪ কোটি ১৯ লাখ ২৪ হাজার ৮০৯ টাকা।

তার আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে মোট লেনদেন হয়েছিল ১৩ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। আর তার মধ্যে বিদেশিদের লেনদেন হয়েছিল ৮৫১ কোটি টাকারও বেশি। বিদেশিরা ২৬৩ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির বিপরীতে শেয়ার কিনেছেন ৫৮৭ কোটি টাকার বেশি। বছরের শুরু অর্থাৎ জানুয়ারিতে বিদেশিদের লেনদেন হয়েছিল ৮১৫ কোটি টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম দামে ভালো কোম্পানির শেয়ার পাওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিতের ফলে বিদেশিরা আবার শেয়ার কিনছেন। আর তাতে লেনদেনও বাড়ছে। অথচ তারা মার্চ ও এপ্রিল মাসে শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রি করেছেন বেশি। তারা বলছেন, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহজ শর্তে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ঋণ সহায়তা দেয়া এবং আসছে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা রাখছে সরকার। এসব সুসংবাদের ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি রয়েছে তা দূর হবে। পাশাপাশি তারল্য সংকটও কমবে। তাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ছাড়াও আইপিও, প্লেসমেন্ট বাণিজ্য বন্ধ, লক-ইনের সময় বৃদ্ধি, ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে কঠোরতার যে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), তাতে পুঁজিবাজারও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ফলে বিদেশিরাও পুঁজিবাজারে ফিরতে শুরু করেছেন।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj