চট্টগ্রাম বন্দর : কনটেইনার ও জাহাজ জট বাড়ছে

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ঈদের ছুটির পর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনারের চাপ বেড়েই চলেছে যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমদানি পণ্য খালাসের হার দ্রুত না বাড়লে এ জট সহনীয় অবস্থায় আসবে না বলে জানান বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি বন্দরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সকাল পর্যন্ত বন্দর জেটিতে ভেড়ানোর অপেক্ষায় সাগরে অবস্থান করছিল ২১টি কনটেইনার জাহাজ, যা সা¤প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি। আর আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল প্রায় ৪৩ হাজারটি, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি। বন্দর চত্বরে ধারণক্ষমতার চেয়ে কনটেইনারের সংখ্যা বেশি হলে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। একটি কনটেইনার জাহাজ থেকে নামিয়ে বন্দর চত্বরে রাখা এবং সেখান থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে তোলার কার্যক্রমও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। এতে করে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ধীরগতিতে হয়।

ঈদের ছুটির পর গতকাল সকাল পর্যন্ত কনটেইনার খালাসের হার স্বাভাবিক অবস্থায় আসেনি। গত সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কনটেইনার খালাস হয়েছে ২ হাজার ৪০৩টি। স্বাভাবিক সময়ে খালাস হয় সাড়ে তিন হাজার। খালাসের হার কমলেও এ সময় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানো হয়েছে দিনে গড়ে সাড়ে তিন হাজারটি। ফলে কনটেইনারের স্ত‚প জমেছে বন্দর চত্বরে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, ঈদের দিন বন্দরের পুরো কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো কনটেইনার খালাস হয়নি। ঈদের ছুটির আগের দিনও খালাস কমে দাঁড়ায় ৩৪৪ কনটেইনারে। গতকাল পর্যন্ত ছয়দিনে কনটেইনার খালাস হয়েছে ৭ হাজার ৪৬৫টি।

স্বাভাবিক সময়ে ছয়দিনে খালাস হওয়ার কথা ১৮ থেকে ২১ হাজার কনটেইনার।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর বলছে, ঈদে পাঁচ-ছয়দিনের লম্বা ছুটি ছিল উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোয়। গত রবিবার কারখানা খুলতে শুরু করেছে। কারখানা বা বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন গত দুদিন থেকে। এ হিসেবে পণ্য খালাসের হার বাড়বে দুয়েকদিনের মধ্যে। এরপরও এ চাপ সামাল দিতে কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj