ইউএনওর হস্তক্ষেপ : বেড়ায় চলাচলের রাস্তা পেল দেড় শতাধিক পরিবার

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

হারুণার রশীদ হারুণ, বেড়া (পাবনা) থেকে : পাবনার বেড়ায় উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে দেড় শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের চলাচলের জন্য দেড় ফুটের রাস্তা সাড়ে চার ফুট করা হয়েছে। উপজেলার আমিনপুর থানাধীন পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের হরিরাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার পুকুরচালাপাড়া স্থানীয়দের চলাচলের জন্য না রেখে দোকান, গুদাম ও অফিস ঘর নির্মাণ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে ওই এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের যাতায়াতের জায়গা সংকীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে তা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এলাকাবাসীর জানান, রাস্তা না রেখে দোকান, গুদামঘর ও অফিস ঘর নির্মাণ করায় বাসাবাড়িতে যাতায়াতসহ রিকশা-ভ্যান চলাচলের রাস্তা ছিল না। এতে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করতে হাটবাজারে যেতে পারতেন না। সংকীর্ণ পথে একজন মানুষ কোনো রকমে বের হতে পারলেও কোনো আসবাবপত্র অথবা একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তি চলাচল করা যেত না। কেউ অসুস্থ বা মারা গেলে তাকে তিনজন মিলে মাথার উপরে করে এলাকা থেকে বের করতে হতো। তাদের অভিযোগ, সবাই বিষয়টি জানলেও মূলত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও সমাধান মেলেনি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়গার মালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় সালিশ বৈঠক করে দীর্ঘ পাঁচ মাস চেষ্টার পরে রাস্তা পায় সংখ্যালঘু পরিবারগুলো।

তাদেরই একজন মানিক কুমার শীল। তিনি বলেন, আমাদের এত দিনের এত বড় সমস্যা ইউএনও সমাধান করে দিয়েছেন। এ জন্য আমরা সংসদ সদস্য, ডিসি, মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাই ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে গণউপদ্রব হিসেবে জনগণের সুবিধার্থে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দুপাশ থেকে দেড় ফিট করে মোট সাড়ে চার ফিট রাস্তা বের করতে সক্ষম হয়েছি। এটা খুব কঠিন একটা কাজ ছিল। এটি সমাধান হওয়াতে তৃপ্তিবোধ করছি। তবে এটা আমাদের সরকারি দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj