রাণীনগরে ঝড়ে উপড়ে পড়া বটগাছ হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু সত্য। গত মাসে কালবৈশাখীতে নওগাঁর রাণীনগরে একটি বটগাছ উপড়ে যায়। উপড়ে যাওয়া গাছটি অলৌকিকভাবে দাঁড়িয়েও যায়। গাছটি কাটার সময় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে। ঘটনার পর থেকে প্রতিদিন উৎসুক জনতা গাছটি একনজর দেখার জন্য ভিড় করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত যদু প্রামাণিকের ওপর ছোটবেলা থেকে মাঝে মধ্যে জিন (স্থানীয় ভাষায় মাদার) ভর করত। প্রায় অর্ধশত বছর আগে যদু প্রামাণিক এই বটগাছটি রোপণ করেন। গাছটি ধীরে ধীরে মাদারের গাছ হিসেবে পরিচিতি পায়। জিন বা মাদারের স্মরণে সেখানে প্রতি বছর মাদারের পালা গানের আসর বসে। এই গাছে মানত মেনে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে রোগ-ব্যাধি দূর করতে। অনেকের দাবি, এই গাছে মানত করে অনেকে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছে।

গত মাসে সারাদেশে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে গাছটি পাশের বাড়ির ওপর উপড়ে পড়ে। কিন্তু জিনের ভয়ে কেউ ডাল-পালা কাটতে সাহস পায়নি। প্রায় এক মাস পর রোজার একদিন আগে গাছ কাটা লেবার গাছের ডাল কাটতে থাকে। গাছের মাথার ডাল কাটার এক পর্যায়ে হঠাৎ গাছটি অবিশ্বাস্যভাবে আগের মতো দাঁড়িয়ে যায়। অনেকের ধারণা, গাছটি উপড়ে পড়ার সময় ডাল-পালার কারণে মাথার অংশ বেশি ভারী ছিল। ডালগুলো কাটার পর গাছের মাথার ভার কমে গোড়া থেকে গাছটি দাঁড়িয়ে গেছে। তবে গাছের শিকড় আগের মতো অবিকল মাটির সঙ্গে মিলে যাওয়াটার বিষয়টি অনেকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন।

গাছের পাশের বাড়ির সুফিয়া বেওয়া জানান, বিয়ের পর থেকে তিনি এই গাছটি দেখছেন। এই গাছতলায় এসে লোকজন মানত করে, প্রতিবছর মাদারের পালাগান বসে। এর বাইরে তিনি কিছু দেখেননি।

গাছের তদারককারী ও মাদারের পালাগানের আয়োজক সুরজান বেওয়া ও পুটি বেওয়া জানান, ওই গাছে মাদার বাস করে। প্রতিবছর গাছের নিচে মাদার স্মরণে পালাগান করতে হয়। সময়মতো পালাগানের আয়োজন না করলে অনেক সমস্যা হয়। তারা যুক্তি দিয়ে বলেন, শত শত মানুষ এসেও গাছটি খাড়া করতে পারবে না। অথচ গাছটি হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। তাদের বিশ্বাস, গাছটি মাদারই দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj