আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বনাম গ্রাহক স্বার্থ

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, কেলেঙ্কারি বেশ আলোচিত ও সমালোচিত একটি ইস্যু। ব্যাংকের সুদের হার এক ডিজিটে নিয়ে আসা নিয়ে সাম্প্রতিককালে জোরালো আলোচনা হলেও প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার বলার পরও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুদের হার এক ডিজিটে নামিয়ে আনতে পারেনি। পরে অবশ্য সরকারের কয়েক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে প্রথমে সরকারি ব্যাংক ও পরবর্তী সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো নামিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও ব্যাংকের গ্রাহকদের বক্তব্য হলো এখনো অনেকগুলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুদের হার এক ডিজিটে নামাতে নানা গড়িমসি করছে।

ব্যবসায়ীরা সব সময় তাদের ক্ষমতা দেখিয়ে আসছেন আমরা গোড়া থেকে এটা দেখে আসছি। সরকারের নীতিনির্ধারকদের বশীকরণে তাদের হাতে থাকে জাদুর বাক্স। ফলে যাবতীয় নীতি প্রণীত হয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থে, জনগণ বা ভোক্তার স্বার্থে নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালের ১ এপ্রিল গ্রাহক স্বার্থসংরক্ষণ কেন্দ্র (সিআইপিসি) গঠন করে। পরিধি বাড়তে থাকায় পরে একে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস (এফআইসিএসডি) নামে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপ দেয়া হলেও গভর্নর পরিবর্তন হওয়ার পর এটি একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কোনো গ্রাহক অভিযোগ করলে তার কোনো প্রাপ্তি স্বীকার পর্যন্ত করা হয় না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি সম্পর্কে তারা কি কিছু করতে পেরেছেন? যদিও এই এফআইসিএসডি প্রতি বছর তাদের কার্যক্রমের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকেন। তবে এ প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন আছে। কিন্তু কতজন গ্রাহক এখান থেকে প্রতিকার পেয়েছেন তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহের মূল কারণ হলো ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্তার কোনো কথা শুনছে না, সেখানে এই এফআইসিএসডি সেকশনের কথা কতটুকু আমলে নিবেন? অন্যদিকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানে এনজিওদের নিয়ন্ত্রণে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পৃথক দপ্তর আছে। যেখানে কোনো এনজিওর গ্রাহক হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ করলে ওই এনজিওর লাইসেন্স বাতিল করা হয়। সে কারণে এনজিওদের কার্যক্রমে একটি শৃঙ্খলা ও গ্রাহক হয়রানির প্রতিকার পাওয়া গেলেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বেলায় তার বিপরীত।

অনেক বিশেষজ্ঞরা গ্রাহক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিলেও এটি মূলত গ্রাহকদের সঙ্গে আরো একটি প্রতারণার শামিল। কারণ কোনো গ্রাহক একটি অভিযোগ দিয়ে পুরো বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইসিএসডি অফিসে জুতা ক্ষয় করেও প্রতিকার না পেলে অভিযোগ জানানো তো দূরের কথা, এর ধারেকাছেও যাবেন না। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে এফআইসিএসডির চরম শৈথিল্য প্রদর্শন, অনাগ্রহ এবং অধিকাংশ স্থানে গ্রাহকদের অভিযোগে নিরুৎসাহিত করার ঘটনায় এই বিভাগটির প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস হারানোর ফলে গ্রাহকরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে এফআইসিএসডি সেলটি পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আদলে গণশুনানির আয়োজন করা এবং বিভাগের কার্যক্রম নজরদারির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন ও ক্যাব প্রতিনিধি সমন্বয়ে ত্রিপাক্ষিক মনিটরিং কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

এস এম নাজের হোসাইন

ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj