অমিয় চক্রবর্তী

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

অমিয় চক্রবর্তী (জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১; মৃত্যু ১২ জুন, ১৯৮৬) কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তার পিতা দ্বিজেশচন্দ্র চক্রবর্তী। অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন। ১৯৪৮-১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি হাওয়ার্ড, বস্টন ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক প্রাচ্য ধর্ম ও সাহিত্যে অধ্যাপনা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। কবি ইয়েটস, জর্জ বার্নার্ড শ’, আলবার্ট আইনস্টাইন, রবার্ট ফ্রস্ট, আলবার্ট সোয়ইটজর, বোরিস পাস্তারনাক, পাবলো কাসালস প্রমুখ বিশ্ববরেণ্য লেখকদের সঙ্গে তার ছিল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। প্রায় সব ক’টি মহাদেশের অসংখ্য দেশে নানাবিধ কর্মসূত্রে তিনি ভ্রমণ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে বক্তৃতা দিয়েছেন। এ কারণে অমিয় চক্রবর্তীর কবিতায় আন্তর্জাতিক বিশ্বপরিবেশের অনেক ভৌগোলিক স্থানের নাম, বর্ণনা ও চিত্র লক্ষ করার মতো। তার কবিতা বিশ্বময়তাকে ধারণ করেছে; এটি তার কবিতাকে দিয়েছে বিশিষ্টতা। এ ছাড়া তার কবিতায় আছে এ অঞ্চলের চিরায়ত বিষয় মরমী সুর ও আধ্যাত্মিকতা। অমিয় চক্রবর্তী তার জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে। আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন। অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তার প্রথম প্রকাশিত বই কবিতাবলি। তার অন্যান্য গ্রন্থ : উপহার, খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার, পালাবদল, ঘরে ফেরার দিন, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, অমরাবতী, অনিঃশেষ, নতুন কবিতা, চলো যাই, সাম্প্রতিক। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তার ৯টি বই রয়েছে। কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার : ইউনেস্কো পুরস্কার, ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৮৬ সালের ১২ জুন শান্তিনিকেতনে তার মৃত্যু হয়।

বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj