সাংসদ লিটন হত্যাকাণ্ড : অস্ত্র মামলায় সেই কাদের খানের যাবজ্জীবন

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী একই আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানকে অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অবৈধভাবে গোলাবারুদ রাখার দায়ে তাকে আরো ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই আদেশ দেন। আবদুল কাদের খান ২০০৮ সালের নির্বাচনে ও মনজুরুল ইসলাম লিটন ২০১৪ সালের নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রায় ঘোষণার পর পরই কাদের খানকে পুলিশ পাহারায় গাইবান্ধা জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে জেলা কারাগার থেকে তাকে আদালতে আনে পুলিশ।

এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি লিটন হত্যা মামলার বিচারকার্য দ্রুত শেষ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনার পরদিন ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি লিটনের বড় বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তে জাতীয় পার্টি (জাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কাদের খানকে মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের রহমান নগরের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ দিনের রিমান্ড চলাকালীন লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন কাদের খান। এর আগেই তিনি জানান, পশ্চিম ছাপড়হাটী খানপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে লিটন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অবৈধ পিস্তল ও গুলি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা আছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই স্থান থেকে একটি খালি ম্যাগজিনসহ পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ আরেকটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ। ওই পিস্তল ও গুলির কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি কাদের খান। এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তভার দেয়া হয় সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মুক্তারুল আলমকে। তিনি ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল রায় ঘোষণা করেন আদালত।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj