বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে তালা ছাত্রদলের : রিজভীর বিরুদ্ধে ¯েøাগান

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : কমিটি ভেঙে দেয়ার জন্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দায়ী করে তাকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতারা। তারা রিজভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ¯েøাগান দিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে, সিসিটিভি ভেঙে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভেতর থেকে কর্মচারীদের বের করে দেন। এ সময় তারা ছাত্রদলের ঢাকা মহানগরীর এক নেতাকে মারধর করেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভরতদের দাবি- ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেয়ার ঘোষণা প্রত্যাহার করতে হবে। ছাত্রদলের দেয়া তিনটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন কমিটি করতে হবে। বয়সের সীমারেখা না রাখা, স্বল্পমেয়াদি কমিটি গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও কলেজের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করতে হবে।

ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ওই আংশিক কমিটিতে তখন ১৫৩ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন পর সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হলে তাতে ৭৩৬ জনকে পদ দেয়া হয়। তবে ওই কমিটি নিয়েও সংগঠনে ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল।

ঈদের আগে গত ৩ জুন ছাত্রদলের ওই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনটি যোগ্যতা নির্ধারণী শর্তও ঠিক করে দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, প্রার্থীকে ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে, তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে হবে এবং ২০০০ সালের পরে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নতুন কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাবেক কয়েকজন নেতাদের নিয়ে গত ৯ জুন রবিবার তিনটি কমিটি করা হয়।

কমিটি ভেঙে দেয়ার ঘোষণা এবং প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিএনপি অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘সরকারের দালালরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘আমাদের অধিকার দিতে হবে, দিতে হবে’- ইত্যাদি ¯েøাগান দিতে শুরু করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধেও ¯েøাগান দেন বিক্ষুব্ধরা। অসুস্থ অবস্থায় ওই কার্যালয়েই আছেন রিজভী। কার্যালয়ের বিদ্যুতের লাইন ছাত্রদলের কর্মীরা কেটে দেয়ায় রিজভীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স নিচে অপেক্ষা করে। বিক্ষুব্ধরা তালা না খোলায় দুপুর ২টার পরে অ্যাম্বুলেন্সটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

এ পরিস্থিতিতে কার্যালয়ের সামনে এসে হাজির হন ছাত্রদলের সাবেক নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মীর সরাফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশিদ হাবিব। তবে বিক্ষোভের মধ্যে তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। সাবেক নেতাদের মধ্যে খায়রুল কবির খোকন ও আজিজুল বারী হেলাল সকালে বিক্ষোভ শুরুর আগেই কার্যালয়ে ঢুকে পড়েছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা অফিস থেকে বেরিয়ে এলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলে ¯েøাগান দেন।

কিছু সময় নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টোরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ছাত্রদলের সাবেক নেতারা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে তারা লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ^াস আদালতে হাজিরা দিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কার্যালয়ের সামনে এলে বিক্ষুব্ধদের সামনে পড়েন। তাদের দাবির কথা শুনে সেখান থেকে চলে যান তারা।

ভেঙে দেয়া কমিটির সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। হঠাৎ করে ঈদের আগে এই কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমরা ঢাকা শহরের ১২টা ইউনিট ও আমাদের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় সংসদ ঐক্যবদ্ধভাবে একটা আবেদননামা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে তিনটা বিষয়ের উল্লেখ ছিল। একটা দাবি ছিল- বয়সের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা থাকবে না। ধারাবাহিক কমিটি হতে হবে এবং একটা কমিটি হবে ছয় মাসের, আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। পরে এক বছরের জন্য কমিটি দিতে হবে, যাতে ছাত্রদলকে সুন্দরভাবে গোছানো সংগঠনের চেহারায় নিয়ে আসা যায়। আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি চাই। কিন্তু ঈদের আগের দিন আমরা দেখতে পেলাম রাতের বেলা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে আমাদের কেন্দ্রীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj