অজিদের প্রতিপক্ষ আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : বিশ^ ক্রিকেটের পরাশক্তিদের প্রসঙ্গ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে চলে আসে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার নাম। অজিরা পাঁচবারের বিশ^ চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে ১৯৯২ সালে প্রথম ও শেষবারের মতো বিশ^কাপ জয়ের কীর্তি গড়ে এশিয়ার দেশ পাকিস্তান। দ্বাদশ বিশ^কাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুদল। ম্যাচটির ভেন্যু ট্যান্টনের দ্য কুপার অ্যাসোসিয়েটস কাউন্টি গ্রাউন্ড।

৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এখন টেবিলের সপ্তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে সমান সংখ্যক ম্যাচে অ্যারন ফিঞ্চের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৪। অজিদের অবস্থান টেবিলের চার নম্বরে। তাই সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার জন্য আজকের ম্যাচটি পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া দুটি দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।

টানা ১০ ম্যাচে হেরে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ^কাপে খেলতে আসে পাকিস্তান। সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন দলটির বিশ^কাপ মিশন শুরু হয় উইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ উইকেটের লজ্জাজনক এক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। তবে নিজেদের পরের ম্যাচেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় কোচ মিকি আর্থারের শিষ্যরা। টানা ১১ ম্যাচে হারা পাকিস্তানের সামনে যখন প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড তখন সবারই ধারণা ছিল যে আরো একটি হার জুটতে যাচ্ছে সরফরাজ বাহিনীর কপালে। কিন্তু আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান ইংলিশদের হারিয়ে প্রমাণ করে যে তাদের দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই। ইয়ন মরগানের দলকে ওই ম্যাচে ১৪ রানে হারায় ইমরান খানের উত্তরসূরিরা। পরের ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। বৃষ্টির কারণে ওই ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।

অন্যদিকে দ্বাদশ বিশ^কাপে পাঁচবারের বিশ^ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয়ে। পরের ম্যাচে উইন্ডিজকে ১৫ রানে হারিয়ে অ্যারন ফিঞ্চ বাহিনী প্রমাণ করে যে কেন তারা এবারের বিশ^কাপের হট ফেভারিট। কিন্তু নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৩৬ রানে হেরে যায় ফিঞ্চবাহিনী। তবে ভারতের বিপক্ষে হারের হতাশা ভুলে জয়ের ধারায় ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ^াসী অজি দলপতি ফিঞ্চ। তিনি বলেন, আমরা প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়েছি। সেমির পথেও এগিয়ে আছি অনেকটাই। ভারতের বিপক্ষে হারাটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। কারণ তারা দল হিসেবে বেশ শক্তিশালী। ওই ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আশা করি, পাকিস্তানকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরব আমরা।

এদিকে টানা ১১ ম্যাচ পর জয়ের স্বাদ পাওয়া পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ চান অজিদের হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ফেভারিট হিসেবে আমরা এবারের বিশ^কাপে অংশ নিতে আসিনি। তবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছি। এখন ছন্দ ধরে রাখার পালা।

পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত ১০৩টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের ৩২ জয়ের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৬৭টি ম্যাচে। এ ছাড়া ৩টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে, আর টাই হয়েছে ১টি ম্যাচ। বিশ^কাপে দুদল এ পর্যন্ত ৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে অজিদের ৪ জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের জয় ৩টি। র‌্যাংকিংয়ে এখন দুদলের অবস্থান কাছাকাছি। পাকিস্তান আছে ষষ্ঠ স্থানে। আর তাদের চেয়ে একধাপ ওপরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

আজকের ম্যাচটি হবে দুদলের পেস আক্রমণের লড়াই। মোহাম্মদ আমির, হাসান আলি ও ওয়াহাব রিয়াজদের নিয়ে গড়া পাকিস্তানের পেস আক্রমণ দারুণ শক্তিশালী। আর মিচেল স্টার্ক, নাথান কাল্টার নাইল ও প্যাট কামিন্সদের মতো সময়ের অন্যতম সেরা পেসারররা রয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলে। পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির ও অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক ছন্দে রয়েছেন। যা আজকের ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করবে।

২০১৫ সালের বিশ^কাপে অজিদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে হেরেছিল পাকিস্তান। সেই প্রতিশোধ কি আজ নিতে পারবে সরফরাজ আহমেদের দল- উত্তরটা জানা যাবে ম্যাচ শেষে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj