গাইবান্ধার ৭৭ মার্কেট অগ্নিঝুঁকিতে : নির্বাপণ ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

ফেরদৌস জুয়েল, গাইবান্ধা থেকে : গাইবান্ধার জেলা শহরসহ সাত উপজেলার ৭৭টি মার্কেট ও সুপার মার্কেট অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২৫ মার্কেটের ১৩টিই রয়েছে অতি অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২৮টি, পলাশবাড়ী উপজেলায় ৮, সাঘাটা উপজেলায় ৭, সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৪, ফুলছড়ি উপজেলায় ৩ ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২টি মার্কেট। গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর পরিদর্শন করে এসব মার্কেটের একটিতেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সন্তোষজনক পায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার অগ্নিনির্বাপণে অতিঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো হচ্ছে শহরের স্টেশন রোডের ইসলাম প্লাজা, তরফদার ম্যানশন, সালিমার সুপার মার্কেট, পাল ম্যানশন, জেসি দেব প্লাজা, আব্বাছ উদ্দিন টাওয়ার, বাসনা মার্কেট, খান মার্কেট ও রেজিয়া ম্যানশন, সার্কুলার রোডের এলিসা সুপার মার্কেট, পিকে বিশ^াস রোডের চৌধুরী শপিং কমপ্লেক্স, ডিবি রোডের আইনজীবী সুপার মার্কেট, বালাসী রোডের পুরান বাজার গ্রিন সুপার মার্কেট এবং পুরাতন বাজারের হাজি ম্যানশন। এর মধ্যে ইসলাম প্লাজায় সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকাণ্ডকালীন মহড়া করতে চাইলে প্রথমে সম্মতি দেয়নি মালিকপক্ষ। পরে অবশ্য সম্মতি মেলে মহড়ার। ফায়ার সার্ভিস বলছে, ফায়ার এক্সটিংগুইসার (সিলিন্ডার), পানির রিজার্ভ ট্যাংক, বালুভর্তি বালতি ও বিকল্প সিঁড়ি না থাকাসহ অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাই নেই এসব মার্কেটে। এসব ছাড়াও আরো কয়েক ধরনের কারণে মার্কেটগুলোকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আর ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় থাকা সদর উপজেলার মার্কেটগুলো হচ্ছে শহরের পার্কভিউ সুপার মার্কেট, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, তালুকদার মার্কেট, প্রাণ গোবিন্দ প্লাজা, আ. ছালাম আজমেরী মার্কেট, গফুর মার্কেট, সমবায় মার্কেট, চুড়িপট্টি মার্কেট, শাপলা সুপার মার্কেট, খান সুপার মার্কেট ও নিউমার্কেট। গোবিন্দগঞ্জের বাপ্পী ম্যানসন, গোলাপ সুপার মার্কেট, জাহানারা সুপার মার্কেট, টি এস প্লাস, রাজমতি সুপার মার্কেট, সৌরভ প্লাজা, নূরজাহান কমপ্লেক্স, বনফুল বি প্লাস মার্কেট, কুন্ডু ভিলা ম্যানসন, ফার্মেসি জহুরা মার্কেট, অছির উদ্দিন প্লাস এন্ড ব্রাদার্স, হক ম্যানসন, জলিল মিয়া সুপার মার্কেট এন্ড ব্রাদার্স, এইচ বি প্লাজা এন্ড ব্রাদার্স, হক সুপার মার্কেট, মেসার্স রাসেল এন্ড ব্রাদার্স, তপন সুপার মার্কেট, জাওয়াদ প্লাজা, হাজি আব্দুল সুপার মার্কেট, পার্বতী সুপার মার্কেট, দোলন প্লাজা, শোভা মার্কেট, শ্রীকৃষ্ণ মোস্ত সুপার মার্কেট, হাসান প্লাজা, উদয়ন প্লাজা, আমেনা সুপার মার্কেট, জহির কমপ্লেক্স ও কল্পনা সুপার মার্কেট। পলাশবাড়ীতে আল মদিনা সুপার মার্কেট, মোল্লা মার্কেট, ডাকবাংলা সুপার মার্কেট, আলীম উদ্দিন সরকার সুপার মার্কেট, এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেট, পিয়ারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেট, সৈয়দ প্লাজা, হাসনা সুপার মার্কেট। সাঘাটায় চৌধুরী মার্কেট, মুজিব সুপার মার্কেট, এন এস ইসলাম প্লাজা, মণ্ডল মার্কেট, বোনারপাড়ায় উপজেলা মসজিদ মার্কেট, মণ্ডল মার্কেট কলেজ রোড। সাদুল্লাপুরে মণ্ডল সুপার মার্কেট, মা-বাবার দোয়া মার্কেট, ইতি মার্কেট, খান সুপার মার্কেট। ফুলছড়িতে আশরাফুল ইসলাম মার্কেট, আফিয়া মার্কেট, মেছের উদ্দিন চেয়ারম্যান মার্কেট এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মনমোহন মার্কেট ও মনছুর সুপার মার্কেট রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায়।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম সরকার বলেন, দুই বছর আগে পরিদর্শন করা এসব মার্কেট এখনো অগ্নিঝুঁকিমুক্ত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি মালিকপক্ষ। আবারো পরিদর্শন করে মার্কেটগুলোকে তিন মাস সময় বেঁধে দেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে ভবন অগ্নিঝুঁকিমুক্ত না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সেই সঙ্গে এসব মার্কেটে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবন লেখা সাইনবোর্ড লাগানো হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj