চাপে সামষ্টিক অর্থনীতি : বাজেট সামনে রেখে সিপিডির মূল্যায়ন

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার ‘জাতীয় অর্থনীতির পর্যালোচনা ও আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এ অভিমত তুলে ধরেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, অর্থনীতির একটি শক্তি ছিল। সেই শক্তিতে চিড় ধরেছে। সেই শক্তিতে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এই দুর্বলতার অনুসঙ্গ হলো কর আহরণে অপারগতা। এই দুর্বলতা এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের একটা অমোচনীয় প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে। এটা যদি অতিক্রম না করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে অভিলাস, সেই অভিলাসের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করার সুযোগ কম হবে এবং অন্য উৎস থেকে যদি আমরা বিনিয়োগ করার চেষ্টা করি তাহলে সামষ্টিক অর্থনীতির দুর্বলতার পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

এ সময় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের চিত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ বছর অর্ধেক এডিপি বাস্তবায়ন হচ্ছে মাত্র ৩ মাসে। এটা যে কি এডিপি হবে সেটা আর ব্যাখা করার প্রয়োজন পড়ে না।

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ পরিস্থিতিকে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ার আর একটি কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো। তিনি বলেন, আমার রেমিটেন্স ভালো, রপ্তানিও ভালো। তারপরও বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বাড়ছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ আছে ৫ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান, যা কয়েক মাস আগেও ছিল ৮ মাসের সমান।

টাকাকে স্থিতিশীল রাখার বিষয়েও কথা বলেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, সরকার যেটা করছে- ডলার বিক্রি করে টাকাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। টাকাকে আর স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। বাংলাদেশের টাকাকে এখন নিচে নামিয়ে নিয়ে আসতে হবে, তার প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে চালু রাখতে হলে এটা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকার মনে করছে টাকা স্বস্তা করলে আমদানি ব্যয় বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর একটা প্রভাব পড়বে। আমরা যেটা মনে করি মূল্যস্ফীতির এখন যে অবস্থান আছে, এ মূল্যস্ফীতির হার যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে। সেহেতু টাকাকে একটু অবমূল্যায়ন করা হলে তা সহ্য করার শক্তি অর্থনীতির আছে। কিন্তু অন্য সময় মূল্যস্ফীতি যদি বেড়ে যায়, তাহলে এটা করা জটিল হয়ে পড়বে। সুতরাং টাকার মান পুনর্নির্ধারণ অবশ্যই প্রয়োজনীয়।

ব্যাংক খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। গত তিন-চার বছর ধরে এ বিষয়ে বলতে বলতে এমন একটা অবস্থায় এসেছি অবশেষে ব্যাংক খাতের সংকট সবাই উপলব্ধি করছে। কিন্তু প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে আমরা তার প্রতিফল দেখি না। বর্তমান সরকার আসার পর যে কয়েকটা পদক্ষেপ নিয়েছে, সবকটি পদক্ষেপ ব্যাংক খাতের জন্য আরো ক্ষতিকর হয়েছে।

এ সময় ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার সুপারিশ করে সংস্থাটি। সংস্থাটি হিসেব করে দেখিয়েছে, এতে সরকারের ব্যয় হবে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ১ কোটি ৮০ লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাবে টাকাটা সহজে পৌঁছে দেয়ার সুযোগও রয়েছে বলে মনে করে সংস্থাটি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রপ্তানি খাত ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দাবি করছে। এটা দিলে সরকারের বাড়তি ১৫ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হবে। ফলে রপ্তানি খাতে মোট ভর্তুকি দাঁড়াবে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো। তিনি বলেন, আমি কৃষককে ৯ হাজার কোটি টাকা দিতে কোনো সমস্যা দেখি না। এটা দিলে তা যুক্তিযুক্ত ও সাম্যবাদী আচরণ হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো বলেন, এ বছর ধানের দাম নিয়ে কৃষকের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এ রকম অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার প্রকট চিত্র অন্য খাতে দেখা যায়নি। তাই কৃষক ভর্তুকি দাবি করতেই পারে। তিনি বলেন, ধানের দাম না পাওয়ায় গ্রাম থেকে উদ্বৃত্ত শহরে এসেছে। শহর থেকে তা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj