প্রথম দিনেই উত্তাপ : বিএনপি এমপির বক্তব্যে সংসদে হইচই

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : সংসদের বৈধতা, রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের দাবি, চাঁদ দেখা ইস্যুতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে প্রথম দিনের সংসদ অধিবেশন। গতকাল মঙ্গলবার বিএনপিদলীয় দুই এমপির পাশাপাশি এসব ইস্যুতে কড়া বক্তব্য রাখেন প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপিরাও। সব মিলিয়ে গতকাল সংসদ অধিবেশন প্রায় ১০ মিনিট থাকে উত্তপ্ত। বিএনপিদলীয় এমপিদের বক্তব্যের সময় হইচই করেন সরকারদলীয় এমপিরা। এ পরিস্থিতি সামলাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একাধিকবার এমপিদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

গতকাল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমীন ফারহানা বলেন, আজকে সংসদে আমার প্রথম দিন। যে কোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমি এমন একটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি যেই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের পরই যদি আপনারা টিআইবি রিপোর্ট দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি গণমাধ্যম ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট দেখেন তাহলে বুঝবেন এ সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। এ সংসদের মেয়াদ যেন একদিনের বেশি না হয় বলে তিনি দাবি জানালে সংসদে সরকারদলীয় এমপিরা এর প্রতিবাদ জানাতে তাকে থামানোর জন্য চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন। এ সময় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী যে জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হন নাই। সেই খালেদা জিয়া এই সংসদে নাই। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার বয়স বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।

তিনি বলেন, সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাকটিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। এই পর্যন্ত বক্তব্য দিলে সময় শেষ হওয়ায় স্পিকার তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শেষ করতে বলে জানান, বক্তব্য শেষ করুন। পরে আবার বলার সুযোগ পাবেন।

পরে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, উনি (রুমীন) নিজে সংসদে এমপি হিসেবে শপথ নিয়ে সেই সংসদকে অবৈধ বলায় সংবিধানকে কটাক্ষ করেছেন, গণতন্ত্র ও দেশের ১৬ কোটি মানুষকে অসম্মান করেছেন। তিনি রুমীনের বক্তব্যের এসব অংশ এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানালে স্পিকার তাতে সম্মতি দিয়ে তার বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ বাদ দেয়া হবে বলে জানান। স্পিকার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৩০৭ ধারা অনুযায়ী রুমীনের বক্তব্যের এ অংশটি এক্সপাঞ্জ করা হবে।

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপি আরেক সাংসদ ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় তিনি চাঁদ দেখা কমিটিকে বাতিল করারও দাবি জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ঈদের চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে। চাঁদ দেখা যায় সন্ধ্যার সময়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রথমে রাত ৯টায় ঘোষণা দিলেন, কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ হবে না। আবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই বলা হলো, চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ। এ নিয়ে জনমনে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করলে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দেশে মদ-জুয়ার লাইসেন্স দিয়েছিল। জঙ্গীবাদ, বাংলা ভাই-শায়খ আবদুর রহমানদের তৎপরতা বিএনপি আমলে দেশবাসী দেখেছে। কিন্তু এবার ঈদে চাঁদ দেখানো নিয়ে জনগণকে ভোগান্তি দেয়া হয়েছে। আর রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বালিশের দাম নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে।

এর আগে ফ্লোর নিয়ে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, টাকার অভাবে অনেক হাসপাতালে মানুষকে সুচিকিৎসা দিতে পারি না। অথচ পত্রিকায় দেখলাম, যেখানে হাসপাতাল নেই অথচ যন্ত্রপাতি কিনতে জার্মান যাচ্ছে একটি প্রতিনিধি দল। আবার অনেক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে কিন্তু সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় পড়ে আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ যেসব যন্ত্রপাতি পড়ে আছে দয়া করে আমাদের দিয়ে দেন।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, দেশে আসলে হচ্ছেটা কি? নির্বাচনের আগে এই সরকারের একটি প্রতিশ্রæতি ছিলো দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র। এখন দেখতে পাচ্ছি কিছুই হচ্ছে না। ব্যাংক থেকে অনেক টাকা গায়েব হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছড়িয়েছে। ঋণের টাকা ফেরত আসছে না। ব্যাংকের টাকা যাচ্ছে কোথায় সরকারের সেটা খতিয়ে দেখা উচিত।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj