পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা : বিজেপির বোমায় তৃণমূলের দুজন নিহত

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : অশান্তি থামছে না পশ্চিমবঙ্গে। ফের রাজনৈতিক খুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে। সন্দেশখালির ভাঙিপাড়ার রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং খুনের ঘটনার রেশ কাটার আগেই গত সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় খুন হন আরো দুজন তৃণমূল কর্মী। মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির দুষ্কৃতকারীরা বোমা মেরে খুন করে তাদের। প্রশাসনকে ঘটনা জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল ঘুরে গেছে। অন্যদিকে, হামলায় দলীয় যোগ নেই বলে দাবি করেছে বিজেপি। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিন জনকে ধরা হয়েছে, যারা এলাকায় বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত।

এদিকে লোকসভা ভোটের পরে রাজ্যে যেভাবে হিংসা ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। ইলেকট্রনিক সংবাদ মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ৩৫৬ ধারা জারি হতেও পারে। যখন এ নিয়ে দাবি উঠবে, তখন কেন্দ্র তা ভেবে দেখবে। রাজ্যপালের এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত আছি।

সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে রাজ্যপাল বলেন, নির্বাচনোত্তর হিংসায় ১২ জন প্রাণ হারান। তৃণমূলের একাংশের মতে, রাজ্যপাল পদে কেশরীর মেয়াদ আর বেশিদিন নেই। এ কারণে এ রাজ্যে পুনর্বহাল হতে বা অন্য রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়ার আগ্রহেই তার এ ‘অতি’ সক্রিয়তা। রাজ্যে শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনে সর্বদলীয় বৈঠকের পক্ষেও কথা বলছেন কেশরী। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে প্রাথমিক কথা হয়েছে তার।

কিন্তু তৃণমূল সূত্রের মতে, রাজ্যের পরিস্থিতি এমন কিছু খারাপ নয় যে, সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে হবে। তার পরেও যদি রাজ্যপাল বৈঠক ডাকেন, তাহলে দলে আলোচনা করে যোগদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল মমতার : রাজ্য সরকারই নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশকে। অথচ লোকসভা ভোটের ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি পুলিশের দিকেই আঙুল তুলল রাজ্য সরকার। গত সোমবার নবান্ন সভাঘরের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে অন্তত অর্ধডজন মন্ত্রী পুলিশের ‘অসহযোগিতার’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মেদিনীপুরের এক মন্ত্রী বলেন, পুলিশ যেভাবে কাজ করছে, তাতে শাসক দলের ‘জায়গা’ চলে যাচ্ছে। শাসক দলের আক্রান্ত কর্মীদের অভিযোগ নিচ্ছে না পুলিশ। যদিও বা নিচ্ছে, মামলা দেয়া হচ্ছে লঘু ধারায়। তাতে জামিন পেতে সুবিধা হচ্ছে অভিযুক্তদের।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের কথা শুনে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মুকুল রায় বলেন, পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই সবার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেয়া উচিত। কারণ, পুলিশ তো তারই অধীনে। এ ছাড়া, কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে সরকার ভাঙার চেষ্টা করলে ‘আহত বাঘে’র মতো ভয়ঙ্কর হবেন বলে গত সোমবার যে হুঁশিয়ারি দেন মমতা, তার জেরে মুকুলবাবু বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে রাজ্যে একের পর এক বিজেপি কর্মী খুন হচ্ছেন। বাংলায় আমরাই আহত বাঘ। আর সেই বাঘ কী করতে পারে, নির্বাচনে ইতোমধ্যেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অবশ্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির প্রশ্নে মুকুলবাবু বলেন, রাষ্ট্রপতির শাসন চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শহীদ হওয়ার সুযোগ দেব না। আমাকে ফেলে দিয়েছে, বলে উনি কেঁদে বেড়াবেন এটা হতে দেব না। তবে উনি নিজের ঘর সামলান। উনার ঘরের ১৪৭ জন এসে যদি বলেন, বিজেপিতে যোগ দেবেন, তখন কী করব?

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj