চায়ের নিলাম মৌসুমে বাড়তিচাহিদায় চাঙ্গা দেশীয় বাজার

মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০১৯

আরিফ হোসেন রাজীব : দেশের নিলাম কেন্দ্রগুলোয় চায়ের নতুন নিলাম মৌসুম শুরু হয়েছে। ২০১৯-২০ মৌসুমের শুরু থেকেই পানীয় পণ্যটি তুলনামূলক বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন মৌসুমের শুরু থেকে নিলামে ভালো মানের চায়ের চাহিদা বেশি রয়েছে। এর জের ধরে নিলামে পানীয় পণ্যটির দামও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে দেশের বাগানগুলোয় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব না হলে চলতি মৌসুমজুড়ে দেশীয় নিলামঘরে চায়ের দাম বাড়তির দিকে থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স এসোসিয়েশনের (বিটিটিএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দুটি আন্তর্জাতিক চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল নতুন মৌসুমের প্রথম নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ২৬৯ টাকায়। আগের মৌসুমের একই নিলামে প্রতি কেজি চা গড়ে ২১৯ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। এ নিলামে ৩৯ হাজার ২২০ প্যাকেটে সব মিলিয়ে ২১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৩ কেজি চা সরবরাহ করা হয়েছিল। আগের মৌসুমের প্রথম নিলামে ২৪ হাজার ৮১১ প্যাকেটে মোট ১৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৩৬ কেজি চা সরবরাহ হয়েছিল।

একইভাবে চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় নিলামে ৩৪ হাজার ৩১৫ প্যাকেটে সব মিলিয়ে ১৮ লাখ ৮০ হাজার ৪৬২ কেজি চা সরবরাহ করা হয়েছে, যা আগের মৌসুমের একই নিলামের তুলনায় ১০ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৫ কেজি বেশি। সর্বশেষ নিলামে প্রতি কেজি চা বিক্রি হয়েছে গড়ে ২৫০ টাকায়। আগের নিলামের তুলনায় ১৯ টাকা কমলেও আগের মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় এ নিলামে বাড়তি দামে চা বিক্রি হয়েছে।

মূলত রোজা শুরুর দিন আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ায় মৌসুমের দ্বিতীয় নিলামে ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। এ কারণে দ্বিতীয় নিলামে চায়ের গড় দাম কিছুটা কমে এসেছে। তবে আগামী নিলামগুলোয় পানীয় পণ্যটির গড় দাম ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিটিএ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপপরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, নিলামের শুরুর দিকে দাম একটু বাড়তি থাকতেই পারে, এটা দিয়ে সামগ্রিক বিচার করা ঠিক হবে না। আমাদের বাগানগুলোয় এ বছর চায়ের উৎপাদন অনেক ভালো। আশা করছি চলতি বছর ৯৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।

এদিকে খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাড়তি চাহিদাই চায়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মৌসুমের প্রথম দুটি নিলামে চায়ের সরবরাহ বাড়তির দিকে ছিল। এ সময় সরবরাহ করা চায়ের ৮০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানের চা বেশি কিনেছে। এসব চায়ের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় নিলামে পানীয় পণ্যটির গড় দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা আরো জানিয়েছেন, দেশে প্রতি বছর চায়ের ব্যবহার ৪-৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশীয় বাগানগুলো পানীয় পণ্যটির উৎপাদন বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে দেশে চায়ের উৎপাদন বাড়ার হার ২ শতাংশের কিছু বেশি। চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় প্রতি বছরই দেশে চায়ের দাম বাড়ছে। বাড়তি শুল্ক আরোপ করায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পানীয় পণ্যটির আমদানিও প্রায় বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে চায়ের বাজারে চাঙ্গাভাব আরো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

এ কারণে চায়ের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে দেশীয় বাগানগুলোয় উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj