ঘুরবে সাইকেলের চাকা এগিয়ে যাবে ওরা

সোমবার, ১০ জুন ২০১৯

রাশেদুজ্জামান বাবু

দরিদ্র বাবা-মায়ের সন্তান মৌসুমি আক্তার। দিন মজুর বাবার রোজগারে সংসারে নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা। সেই পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়াটা মোটেও সহজ নয়। মৌসুমিকেও মোকাবেলা করতে হয়েছে নানান প্রতিক‚লতার। সেসব বাধা পেরিয়ে মৌসুমি একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে। সামনের বছর পঞ্চগড়ের বোদা মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে মৌসুমি। স্কুলের ফি কিংবা প্রাইভেট পড়ার টাকা সময় মতো দিতে পারত না। বাবা-মার কাছে টাকা চাইলে প্রায়ই শুনতে হতো, এত লেখাপড়া করে কি হবে? লেখাপড়ার দরকার নেই। সংসারের কাজে মাকে সাহায্য করে তবেই কলেজে আসতে হয় মৌসুমিকে। অনেক সময় কলেজে আসতে আসতে দেরি হয়ে যেত তার। যেদিন ভাগ্য ভালো থাকতো সেদিন দেখা হয়ে যেত কোনো বন্ধুর সঙ্গে। সেই বন্ধুর সাইকেলে করে পোঁছে যেত কলেজে।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ের বোদায় নারী উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পঞ্চম থেকে একাদশ শ্রেণির ৪৮ জন মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হয় বাইসাইকেল। সেই ৪৮ জনের মধ্যে মৌসুমি একজন। ‘যতই থাকুক প্রতিবদ্ধকতা এগিয়ে যাব আমরা এ আমাদের দীক্ষা’…এ ¯েøাগান নিয়ে এলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝড়ে পড়া রোধ, বিদ্যালয় গমন সহজ ও সময়মতো উপস্থিত হওয়ার লক্ষ্যে এই সাইকেল তুলে দেয়া হয়।

মৌসুমি বলেন, আমার বাবা অত্যন্ত গরিব। সারাদিন দিন মজুরের কাজকর্ম করে যে রোজগার করে তাতে আমাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। সেখান থেকে আমার লেখাপড়া চালানো কঠিন হয়ে পরে। অনেক সময় বন্ধুদের সাইকেল বা তাদের সহযোগিতায় আমি পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। আজ যে সাইকেলটি আমি পেয়েছি তাতে আমার উপকার হয়েছে। অত্যন্ত বাবা-মায়ের বকুনি আর স্কুলের শিক্ষকদের দেরীতে পৌঁছানো হাত হতে রেহাই পাব এখন।

একই কলেজের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী বেগম বলেন, প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলেজে যেতে হয়। সময় মতো ক্লাসে যেতে পারি না। এখন তো সাইকেল পেয়েছি। এখন সময় মতো ক্লাসে আসতে পারব আশা করি।

বড়শশী ইউনিয়নের সুমিও পেয়েছে একটি সাইকেল।

সুমি বলেন, আমার ইউনিয়নটি উপজেলা ও জেলা সদর থেকে অনেক দূরে শহরে যেতে হলে আমাকে নদী পাড় হতে হয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি বড় স্কুলে পড়তে পারছি না। গ্রামে শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা না থাকায় গ্রামের বিদ্যালয়ে পরতে হয়। এর পরে ঝড় বৃষ্টি হলে স্কুলে যাওয়া-আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে এখন সাইকেলটি পেয়ে অনেক দূরে হলেও সুযোগ-সুবিধাগুলো নিতে পারব। আমার অনেক উপকারে আসবে।

সাইকেল পেয়ে দারুণ খুশি বোদা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জেরিন। জেরিন জানায়, প্রতিদিন রৌদ্র বৃষ্টি অপেক্ষো করে ৭ কিলোমিটার দূর হতে আসতে হয় বিদ্যালয়ে। কখনো কখনো ভ্যান ও অটোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তার পরও পাওয়া যেত না। অনেক সময় হেঁটে আসতে হতো তাই সময় মতো ক্লাসে আসতে পারতো না। সাইকেল পেয়ে তার খুব লাভ হয়েছে।

এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আলম টবি। তিনি মনে করেন, সাইকেল পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজতর হবে।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj