গ্রামীণ নারীদের বন্ধু : তথ্য আপা

সোমবার, ১০ জুন ২০১৯

সেবিকা দেবনাথ

তৃণমূলের নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়াই ছিল মূলত তথ্য আপা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, জেন্ডার, আইন এই ছয়টি বিষয়ে সেবা দেয়া হয়।

ভেড়ামাড়ার নাজনীন আক্তার ও বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মাহাবুবা মাহি। বাবা-মায়ের দেয়া নামটা যেন প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে নাজনীন ও মাহির। গ্রামের সবাই তাদের চেনে ‘তথ্য আপা’ নামে। ডাকেও ওই নামেই। মাত্র কয়েক বছর আগেও ইন্টারনেট, কম্পিউটার, ই-মেইল কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মতো সেবাগুলোর সঙ্গে এলাকার যে সব নারীদের পরিচয় ছিল না, তারাই এখন যোগাযোগের এই ডিজিটাল সেবাগুলো গ্রহণ করেছেন। এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কৃতিত্ব নাজনীন, মাহির মতো তথ্য আপাদের।

নাজনীন ও মাহি জানান, ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র থেকে তথ্য আপারা গ্রামীণ নারীদের যে সেবাগুলো দিচ্ছেন সেগুলো হলো- চাকরির আবেদন, স্বাস্থ্য সমস্যা, উৎপাদিত পণ্যের বাজার, জমিতে উপযুক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ কিংবা নির্যাতিত হলে কোথায় গেলে পাওয়া যাবে সঠিক সহায়তা সে বিষয়ক তথ্যসমূহ। জনগণের কাছে এই প্রকল্প খুবই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত

আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নারীদের পরিচয় করিয়ে, প্রযুক্তিকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের হাতিয়াররূপে ব্যবহার করে তাদের জীবনমান আরো সহজ, সুন্দর এবং উন্নত করেছে সরকারের তথ্য আপা প্রকল্প। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’। দেশের গ্রামীণ দরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত ও কম সুবিধাপ্রাপ্ত নারীদের সুবিধা দিতে ২০১১ সালের ৫ জুলাই সাতটি বিভাগের নির্বাচিত ১৩টি জেলার ১৩টি উপজেলার ১৩টি তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এই প্রকল্প চালু করে সরকার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ হয়। ২০১৭ সালে শুরু হয় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় এবং ২০২২ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব কামরুন নাহার জানান, ইনফো লেডি বা তথ্য আপা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের এক কোটি নারীকে ক্ষমতায়িত করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও নারীর ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন ‘তথ্য আপা’ সরকারে সফল প্রকল্পের একটি।

তথ্য আপা প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মীনা পারভীন জানান, তৃণমূলের নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়াই ছিল মূলত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন তথ্য সেবা কর্মকর্তা ও দুজন তথ্য সেবা সহকারী রয়েছে। একজন ‘তথ্য আপা’ তথ্যকেন্দ্রে বসেন। সেখানে বসেই নারীদের বিভিন্ন তথ্য দেন। বাকি দুজন ল্যাপটপ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যান। তথ্য আপা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, জেন্ডার, আইন এই ছয়টি বিষয়ে সেবা দেয়া হয়। সেবা গ্রহীতাদের নিয়ে প্রতি মাসে দুটি করে উঠান বৈঠক হয়। সেখানে ইউএনও, চিকিৎসকসহ অনেকেই অংশ নেন। কোনো সমস্যা কিংবা প্রশ্ন থাকলে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই তথ্য সেবা দেয়া হয়।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj