তারুণ্যের ট্রেন্ড ফ্যাসিনেশন

রবিবার, ৯ জুন ২০১৯

নাজমুল হোসেন তানভীর

আউটফিটের রঙগুলো নিয়ে খেলা হলো ফ্যাশনের সবচেয়ে সৃজনশীল কাজ। যেকোনো একটি রঙ কেন্দ্রে রেখে অন্যগুলো পাল্টে দেয়ার এক্সপেরিমেন্টে একটা ভিন্ন রকমের আনন্দ পাওয়া যায়। বলা যায় তারুণ্যের ফ্যাশন হতে হবে ‘সিম্পল, কমফোর্টেবল অ্যান্ড ইজি টু পুল অফ।’ কাজের প্রয়োজনে বা আয়োজন বুঝে প্রতিদিন পোশাক নির্বাচন করতে হয় আমাদের। তাই ফুলহাতা শার্ট, হাফহাতা শার্ট, পলো শার্ট বা টি-শার্ট সবটাই পরার চল আছে।

সব রঙের দেখা মিলবে গরমের পোশাকে। তবে সেখানে গাঢ় রং না নিয়ে সব ধরনের রঙেরই হালকা শেড বেছে নেওয়া হয়। এতে গরমে একধরনের স্বস্তি পাওয়া যায়।

প্রতিবছরই নতুন ট্রেন্ড যুক্ত হয় ফ্যাশন স্টেটমেন্টে। যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ওয়্যারড্রোবেও আনতে হয় নানা পরিবর্তন। এই সময়ের তরুণদের কমবেশি ফ্যাশন-সচেতন। তারা নিজেদের ট্রেন্ডি রাখতেই বেশি পছন্দ করে। সে জন্যই কাপড় কেনার সময় ট্রায়াল দিয়ে দেখার প্রচলন বাড়ছে। ট্রায়ালে প্রাথমিকভাবে পোশাকের ফিটিং ও ম্যাচিং গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভিনটেজ এবং রেট্রো স্টাইলগুলো ট্রেন্ডে যোগ হয়েছে নতুনভাবে। সত্তর, আশির দশকের পোশাকের কাটছাঁট ও প্যাটার্ন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন উইকের ক্যাটওয়াকগুলোতে আশির দশকের আবহ প্রকাশ পেয়েছে।

মৌসুম যা-ই হোক না কেন দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ছেলেদের জন্য সব সময়ই ফ্যাশনে ‘ইন’ ফুল ¯িøভ বা হাফ ¯িøভ শার্ট। আদতে পরিচিত শার্টগুলোই রং, নকশা আর কাটের পরিবর্তনে পাচ্ছে নতুন নতুন চেহারা। গতানুগতিক সূক্ষ কিছু পরিবর্তনেই একই চেহারার শার্টের ক্যানভাস পাচ্ছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তাই লাইফস্টাইলে ট্রেন্ডি থাকতে নতুন ডিজাইন বা কাটের শার্ট ছাড়া যেন আপনার ওয়ারড্রোব ম্যাড়মেড়াই!

ছেলেদের ফ্যাশন বলুন আর ব্যক্তিত্বই বলুন সবকিছুই ফুটে ওঠে শার্টের মাধ্যমে।

এক রঙা শার্ট সব সময়ই আভিজাত্যের প্রতীক। আর কর্মব্যস্ত স্মার্ট পুরুষের প্রথম পছন্দ এক রঙা শার্টই। এসব ক্ষেত্রে কলার আর বোতামের রঙে আসছে বৈচিত্র্য। তবে, তরুণদের কাছে অফিস বা আড্ডায় সমান জনপ্রিয় এখন প্রিন্টের বৈচিত্র্যময় ক্যাজুয়াল শার্ট। ক্যাটস আই-এর পরিচালক রিয়াদ সিদ্দিকী রুশো জানান, আধুনিক রুচিবোধসম্পন্ন মানুষ আবার ঝুঁকছেন প্রিন্টের শার্টের দিকে। বৈচিত্র্যময় প্রিন্টের ব্যবহার আপনার লুকে আনবে ভিন্নতা। কিছু কিছু শার্ট ডিজাইন করা হচ্ছে দুই ধরনের প্রিন্ট ব্যবহার করে। যেমন বডির কাপড়ে যে প্রিন্ট থাকছে। হাতা দুটোয় থাকছে আলাদা প্রিন্টের কাপড়।

বডি ফিটিং শার্ট এ সময়ের পুরুষদের পছন্দের শীর্ষে। তাই এই বডি ফিটিং শার্টের ফ্যাশনে নতুন সংযোজন যোগ হচ্ছে নানা রকম রঙের ব্যবহারে। পার্টি উপযোগী বডি ফিটিং শর্ট শার্ট অনেক ফ্যাশন সচেতন ছেলেদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শার্টের পিছনে লকার লুপ, ফ্যাগ ট্যাগ বা ফ্রুট লুপও ব্যবহার হচ্ছে ফ্যাশন ও ফিটিংস অনুসরণ করে।

পকেট ছাড়া শার্ট আছে। তবে চলতি ধারার শার্টে থাকছে পকেটের ব্যবহারও। এক ও দুই পকেটের এসব শার্টের কাঁধ, কলার বা হাতার ভাঁজে ছোট ছোট পরিবর্তন চোখে পড়বে। কলারেও আছে ভিন্নতা। অনেক হাউসের শার্টেই উঁচু কলার, ব্যান্ড কলার ইত্যাদি দেখা গেল। এক রঙের পোলো শার্ট ছাড়াও আছে ছাপা নকশার পোলো। ছাপায় আছে ফুল, জ্যামিতিক নকশা, ডটপ্রিন্ট, বলপ্রিন্টসহ নানা ধরনের সুপারহিরোর অবয়ব। বন্ধুদের সঙ্গে ‘হ্যাং আউটের’ বেলায়ও খাটো প্যান্টের সঙ্গে অনেকে টি-শার্ট বা পলো শার্ট পরছেন। তবে সব পোশাকেই সুতি কাপড়ের প্রতি নির্ভরতা। ব্যাঙের ফ্যাশন ডিজাইনার সায়েম হাসান প্রিন্স মনে করেন, ‘গরমে আরামের কথা ভাবলে সুতি কাপড়ের বিকল্প নেই। শার্টের নকশায়ও আছে নতুনত্ব। সব সময়ের জনপ্রিয় চেক শার্ট ছাড়াও নানা ধরনের ছাপা নকশা করা হয়েছে।’

তবে, তরুণরা ব্যক্তিগত স্টাইল স্টেটমেন্টে সবই নিজের পছন্দকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। পোশাক কতটা কমফোর্টেবল করে তোলা যায়, চেষ্টা থাকছে সেদিকেও। নতুন স্টাইল ক্যারি করার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে অনেকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। স্ট্রাইপও এখন জনপ্রিয়। মোটা অথবা পাতলা ভার্টিক্যাল স্ট্রাইপের শার্ট। স্ট্রাইপড বোম্বার, পুলওভার, টার্টেল নেক- এগুলোও দেখা যেতে পারে। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে যেকোনো বডি শেপের মানুষকে ভালো লাগে স্ট্রাইপড আউটফিটে।

মোট কথা এমন পোশাক বাছাই করা উচিত, যেটা কমফোর্টেবল আর পুল অফ করা যায়। টার্টেন প্লেইড, প্রিন্টেড অথবা কিউবান শার্ট পরা যেতে পারে। আর সলিড কালারের শার্টগুলো তো সব সময়ই লিস্টে থাকবে। এগুলোর সঙ্গে স্ট্রাইপটা অ্যাড হয়েছে এবার।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj