নানা রকম ভাবনা

রবিবার, ৯ জুন ২০১৯

ক্যারিয়ার ও জীবনের লক্ষ্য এক নয়। জীবিকা নির্বাহ বা কাক্সিক্ষত পরিচয় ফুটিয়ে তোলার নিমিত্তে যা অর্জন করা যায় তাই ক্যারিয়ার। কিন্তু জীবনের লক্ষ্য ব্যাপক। জীবনের লক্ষ্যের কোনো শেষ বিন্দু নেই, সীমারেখা নেই। জীবনের লক্ষ্য জীবনের মতো জীবন্ত।

অন্যদিকে জীবনের ধাপে ধাপে উন্নতির সোপানে অগ্রসর হওয়ার নাম ক্যারিয়ার। আর এই ক্যারিয়ারের পথটি মসৃণ করার জন্য প্রয়োজন আগে থেকেই সচেতনতা।

পরিকল্পনা : পরিকল্পনা করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। ব্যক্তিগত ও সামাজিক চাহিদা, অবস্থান, সামর্থ্য ও রুচিবোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। এজন্য আপনি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান গ্রহণ করতে পারেন। স্বল্প সম্পদ দিয়ে সঠিক সময়ের মধ্যে যখন আপনি কোনো কাজের কথা ভাবেন, তখন সেটা স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান। পরিকল্পনার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় থাকা উচিত। যথালক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত, সঠিক কাজ, সময় এবং প্রচেষ্টা। জীবনে সিদ্ধান্ত নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিদ্ধান্ত বলতে একটি কাজ করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেটি থেকে বিকল্প বা কোনো একটি বিষয় বেছে নেয়াকে বোঝায়। আর সিদ্ধান্ত সঠিক হওয়ার ওপর সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করে। সিদ্ধান্ত শেষে আপনাকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সময়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

শুরু করতে পারেন যেভাবে : তোমার জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য, স্কুলে এই বিষয়ে রচনা লেখেনি এমন শিক্ষার্থী কমই আছে। মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আবার শিক্ষক ইত্যাদি। শখ অনুযায়ী এই কিশোর বয়স থেকে শুরু করা উচিত ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। কারণ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার আসল সময় এই বয়সটাই। যদি প্রস্তুতিটি সঠিক হয় তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনাটির বাস্তব রূপলাভ সম্ভব। আর সেটা সম্ভব প্রচেষ্টা, ইচ্ছা, আগ্রহ ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ওপরই। তবে এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সামর্থ্য, দক্ষতা, আগ্রহ, রুচি, উৎসাহ, মূল্যবোধ, স্বপ্ন ও গুণাবলিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সময়ের যথার্থ ব্যবহার : সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে অবশ্যই সময়ের গুরুত্ব দিতে হবে। সব কাজ সম্পন্ন করতে হলে অবশ্যই সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে। তবে সময় ধরে রুটিন অনুযায়ী চললে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে তেমন বেগ পেতে হয় না।

নিজেকে জানুন : বর্তমানে প্রতিযোগিতার যুগে নিজেকে যাচাই করার মাধ্যমে অন্যকে বুঝতে হবে। আপনার ভালোলাগা, সামর্থ্য, রুচি, মূল্যবোধ ইত্যাদি ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করুন। আর নিজেকে জানার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আপনি পেতে পারেন কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠা। সর্বোপরি জীবনের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত অর্জনগুলোকে বাড়িয়ে তুলুন। কেননা একদিন এগুলোর সাফল্যের সহায়ক। অনেক সময় অন্যের সঙ্গে আলাপের প্রয়োজন হতে পারে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj