পলিথিন : পরিবেশের এক অভিশাপ

রবিবার, ৯ জুন ২০১৯

প্রায় দেড় যুগ আগে নিষিদ্ধ হলেও আজো পলিথিন আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয়। পলিথিন ক্ষতিকর জানা সত্ত্বেও আমরা স্বেচ্ছায় ব্যবহার করি। আইনের প্রয়োগের শিথিলতা এবং আমাদের পরিবেশ রক্ষার প্রতি চরম উদাসীনতা পলিথিন নামের এই পরিবেশের বিষ আজো বহাল তবিয়তে টিকিয়ে রেখেছে। প্রতিদিন হাটে-বাজারে, দোকানে, মার্কেটে জনপ্রিয় বহনকারী জিনিস হলো পলিথিন। মূলত পলিথিনের বিকল্প থাকলেও তা আজো পলিথিনের মতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি বা জনপ্রিয় করতে পারেনি। আমরা জেনেও ভুলে যাই যে, পলিথিন কোনো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয় না বরং এর প্রভাব এতটা মারাত্মক যে যুগের পর যুগ তা মাটিতে দিব্বি ঠিক থাকে। অর্থাৎ পলিথিন পচতে বহু বহু বছর সময় লেগে যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পলিথিনের ব্যবহার রোধে বহু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিন্তু তাতে লাভ হয়নি খুব একটা। বরং আরো জনপ্রিয় হচ্ছে পলিথিন। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফার আশায় অনেক অসাধু ব্যবসায় গোপনে পলিথিন তৈরির কারখানা গড়ে তুলছেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকা শহরের এক একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে চারটি পলিথিন ব্যবহার করছে। সে হিসাবে প্রতিদিন ঢাকায় পলিথিন ব্যবহারের পরিমাণ ২ কোটি পিস। এসব পলিথিন ব্যবহারের পর যাচ্ছে কোথায়? অধিকাংশই ফেলা হচ্ছে ড্রেনে। আর শত শত বছরেও যে জিনিসটি পচে না সেই পণ্য আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা হুমকি হতে পারে তা ধারণা করা যায়। ফলে ড্রেনেজ সিস্টেমে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

২০০২ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়। কেবল ঢাকা শহরের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সারা দেশের চিত্রটি কেমন হবে? প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ পলিথিনের স্থান হচ্ছে আমাদের নদ-নদী, খাল-বিল এবং মাটি বা জমি। জমিতে বছরের পর বছর পড়ে থেকে মাটির উর্বরতার সর্বনাশ করছে পলিথিন। কারণ মাটিতে পড়েই ধীরে ধীরে এর বিষাক্ত উপাদান ছড়াতে থাকে। আমাদের অতি শিগগির পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আর সেটা করতে হলে প্রথমত যারা পলিথিন উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং পলিথিনের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে সম্পূর্ণভাবে। দ্বিতীয়ত, পলিথিনের খারাপ দিক সম্পর্কে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

পলিথিন সস্তা, সহজে বহনযোগ্য, স্থায়ী হওয়ায় পলিথিনের জনপ্রিয়তা বেশি। বিজ্ঞানের অন্যান্য কল্যাণকর আবিষ্কারের মতোই পলিথিন আবিষ্কার ছিল একটি চমৎকার। কিন্তু অনেক আবিষ্কারের মতোই আজ পলিথিন আমাদের মানব সভ্যতাকেই হুমকির ভেতর ফেলেছে। পলিথিনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে মুক্ত করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। প্লাস্টিক পণ্যের যেমন রিসাইকেল করা হচ্ছে সেরকম পলিথিন দিয়েও যদি কিছু করা সম্ভব হয় তাহলে পলিথিন আর এখানে সেখানে পড়ে থাকবে না। পলিথিনের ব্যবহার কমাতে আমাদের নিজেদেরও অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। অভ্যস্ত হতে হবে পাটের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ ইত্যাদির ওপর। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে নিজে থেকেই সচেতন হয়ে কাজটি করা যেতে পারে। পরিবেশ বাঁচাতে পলিথিনকে না বলার কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই।

অলোক আচার্য
লেখক ও সাংবাদিক, পাবনা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj