আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে মাউন্ট এভারেস্ট

শনিবার, ৮ জুন ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট পর্বতারোহীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়ও বটে। প্রতিবছর শত শত পর্বতারোহী মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের অভিযানে নামেন, আর পেছনে ফেলে আসেন টন টন আবর্জনা। এ সব আবর্জনা এবং মানব বর্জ্যে এভারেস্ট ‘বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ডাস্টবিনে’ পরিণত হতে চলেছে। স¤প্রতি নেপাল সরকার মাউন্ট এভারেস্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে। ১২ জনের একটি দল ওই অভিযান চালায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বুধবার ওই অভিযান সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আর তাতেই বেরিয়ে আসে পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ এক চিত্র। নেপাল সরকারের ৪৫ দিনের ওই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে মাউন্ট এভারেস্ট থেকে ২৪ হাজার ২০০ পাউন্ড আবর্জনা তুলে আনা হয়েছে। যার মধ্যে খালি অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, ব্যাটারি, খাবারের মোড়ক, মানুষের মল এবং রান্নাঘরের বর্জ্য রয়েছে বলে জানান নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বিজ্ঞান দেব পান্ডে। অভিযানে তারা ৪টি মৃতদেহও খুঁজে পেয়েছেন। শুধু আবর্জনায় নয় বরং মাউন্ট এভারেস্ট মৃতদেহেও ভরে উঠছে।

১৯৫৩ সালে প্রথমবার এভারেস্ট বিজয়ের পর প্রতি বছরই পর্বতারোহীর সংখ্যা বেড়েছে। এখন তো এই সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে তাকে রীতিমতো ভিড় বলা চলে। স¤প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভারেস্টের চূড়ার কাছাকাছির কয়েকটি ছবি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর সর্বশেষ চড়াইতে পর্বতারোহীদের দীর্ঘ সারি। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেউ কেউ বলছেন, নেপাল সরকারের উচিত প্রতিবছর কতজন এভারেস্ট বিজয় অভিযানে যেতে পারবেন তা নির্দিষ্ট করে দেয়া এবং সেই অনুযায়ী অনুমতি দেয়া। নিদেনপক্ষে বিখ্যাত হওয়ার লোভে জীবনের ঝুঁকি নেয়া পর্বতারোহীরা আসলেই যথেষ্ট প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কিনা তা যাচাই করা। যদিও নেপাল সরকারের জন্য এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া বেশ কঠিন। কারণ হিমালয়ের পাদদেশের ছোট্ট দেশটির আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস এই পর্বতারোহীরা। নেপাল সরকার প্রতিবছর এ খাত থেকে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj