আসুন, ধনী-গরিব ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই

মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০১৯

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও রোজার মাস শেষে আনন্দ-খুশির বার্তা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে মসজিদে ও ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়েন। তখন সবাই থাকেন খোশ মেজাজে। ধনীর পোশাক একটু দামি হলেও গরিব পরিবারের ছেলেমেয়েরাও আবার নতুন কাপড়ের ঘ্রাণে মেতে থাকে। কেউ আবার ঈদে নতুন কাপড়ও জোগাড় করতে পারে না। আর্থিক দৈন্যের কারণে যাদের মাঝে ঈদের আনন্দ আসেনি এই অসহায় অবুঝ শিশুদের প্রতি সহানুভূতিপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে হবে আশপাশের বিত্তবানদের। এই গরিব ছেলেমেয়েদেরও ঈদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে হবে প্রতিবেশী ধনীদের। ইসলামী নির্দেশনাই হচ্ছে প্রতিবেশীর প্রয়োজন-চাহিদা পূরণ করা। প্রতিবেশী যদি আর্থিক দৈন্যে ও দুরবস্থায় অসহায়ত্বের মাঝে দিন কাটায় তবে প্রতিবেশী বিত্তবানদের পরকালে আল্লাহর দরবারে নিশ্চিতভাবে জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিবেশীর হক না দেয়ায় আল্লাহ পাকের নির্ধারিত শাস্তির মুখোমুুখি হতে হবে বিত্তবানদের। তাই এই ঈদে আপনার চারপাশের অভাবী অসহায় মানুষগুলোর দিকে একটু নজর দিন। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে আপনিও দানের হাত প্রসারিত করুন। কেননা, হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে- ‘ইরহামু মান ফিল আরদি ওয়া ইয়ারহামুকুম মান ফিস সামা’ অর্থাৎ জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া কর। আসমানে যিনি আছেন তিনিও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (আবু দাউদ, তিরমিজি)। মানুষের প্রতি কর্তব্যনিষ্ঠ হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে প্রিয় নবীর (দ.) এই বাণীতে।

ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হয়। এটি ওয়াজিব বা অবশ্য পালনীয়। গ্রহণযোগ্য কোনো কারণে ঈদের নামাজের আগে ফিতরা দিতে না পারলে তা পরে আদায় করতে হবে। ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় জীবিকা নির্বাহের আবশ্যকীয় সামগ্রী ছাড়া নিসাব পরিমাণ টাকা বা সম্পদের অধিকারী হলেই প্রত্যেক সচ্ছল নারী-পুরুষ, নাবালক-সাবালক সবার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। জনপ্রতি পৌনে দুই সের গম বা সমতুল্য টাকা ফিতরা হিসেবে গরিব-মিসকিনকে দিতে হবে। চাল বা অন্য কোনো সামগ্রী দিতে চাইলেও ওই পরিমাণ গমের মূল্যের সমান হতে হবে। সরকারের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শরিয়া বোর্ড এবারের ফিতরার হার নির্ধারণ করেছে সর্বনি¤œ ৭০ টাকা। তবে চাইলে এরচেয়ে বেশি টাকা দেয়া যাবে। যাদের জাকাত দেয়া যায় তাদের ফিতরা দিতে কোনো বাধা নেই। ফিতরা পাওয়ার তারাই বেশি হকদার যারা নিকটাত্মীয় ও মুসলিম প্রতিবেশী। জাকাত-ফিতরাসহ যে কোনো দান গোপন রাখাই শ্রেয়। আত্মীয়স্বজনকে এ কথা বলার দরকার নেই যে, এই টাকা ফিতরা বা জাকাতের টাকা। অন্তরে নিয়ত থাকাই যথেষ্ট।

গরিব মানুষরা যাতে স্বচ্ছন্দে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারেন এ জন্যই আল্লাহ পাক ধনীদের ওপর জাকাত দেয়া ফরজ করেছেন। জাকাত আদায়ে সম্পদ কমে না বরং বৃদ্ধি পায়। ইসলাম মানবতার ধর্ম, মানবতার সেবা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই জাকাতের বিধান ফরজ করেছেন আল্লাহ পাক। সম্পদ যাতে কতিপয় লোকের মাঝে কুক্ষিগত না থাকে এ জন্যই জাকাতের বিধান দেয়া হয়েছে। আসুন! সত্যিকার অর্থেই ঈদের আনন্দে-উৎসবে সবাই মেতে উঠি। ধনী-গরিব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই। কেউ কারো পর নয়, ভাইয়ে ভাইয়ে নয় দূরত্ব-দ্ব›দ্ব নয়- সবাই ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনায় জেগে উঠি। চারপাশের গরিব মানুষগুলোর মুখেও হাসি ফুটুক, সবার যোগে-মিলনে ঈদ হয়ে উঠুক উৎসবমুখর। সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ মোবারক।

আ ব ম খোরশিদ আলম খান
লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ, সাংবাদিক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

ঈদ প্রতিবার, এবারো

ফরিদ আহমদ দুলাল

পথের শেষে কী?

Bhorerkagoj