রূপসী মামি চিৎপটাং : মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

শনিবার, ১ জুন ২০১৯

অনেক ঠ্যালা ধাক্কার পর রূপসী মামিকে বিয়ে করলেন আমাদের আক্কু মামু। আর না করেই কি করবেন- বিয়ের বাজারে আক্কু মামুর মাথার স্টেডিয়ামটা যেভাবে বেড়ে উঠছিল! আর হারবাল ডাক্তার বক্করের আলমারিটাও খালি হয় হয়…। চায়না, মাদ্রাজ, হংকং, তাইওয়ান সব ধরনের লতাপাতা, জৈব-অজৈব শেষ। ডা. বক্কর কেবল বলেই যান- বাইছাপ, খায়া যাইন। লস অইতো না। কাজ না করুক, ইনশাল্লা, ক্ষতি করত না।

– কিন্তু আমার তো দরকার ইমার্জেন্সি।

– আরে কিতা যে কইন না। ইমার্জেন্সি বইলা কিছু আছে? সব আল্লার ইচ্ছা। হেইলা চাইলে মেঘ ছাড়াই বিষ্টি পড়ে। আরে আমরা হইছি উছিল্লা।

আশ্বাস পেয়ে আক্কু মামু বিয়া করলেন রূপসী মামিকে।

মামির বংশের মাইয়ারা কালো, শ্যামলার ছড়াছড়ি। মেহেরু নামের মেয়েটাই একটু ফরসা ধরনের। সবাই দেখতে আসছিল। বংশের মুরব্বি একজন, তার নামও রূপবান চাচা। তিনি রূপবান-তাজেলের শিরোনামে ঘাটু গানের দল চালাতেন। ভালো নামডাক ছিল দলের।

একবার কি মনে করে দলটা বেচে দিলেন ঢালু মুন্সীর কাছে। বিনিময় ঢালু মুন্সীর তৃতীয় পতœী আলপিনাকে তার হাতে তুলে দিতে হবে। লোকমুখে রূপবান চাচা তখন থেকে সংসার পেতেছেন আলপিনাকে নিয়ে।

সেই রূপবান চাচার যখন আশি পেরোয়, তার ভাতিজার সদ্য বিবাহিতা মেহেরুকে দেখেও বিকারগ্রস্ত হলেন। তিনি মেহেরুর মতো রূপসীর সঙ্গ পেতে ব্যাকুল।

ব্যাস, কোনো রকম ফিতা কাটা ছাড়াই মেহেরু এখন রূপসী মামি। বাপেরও মামি, ভাইয়েরও মামি।

মামির একটাই বাতিক। শ^শুরবাড়ির মেহমানরা বাসায় এলেই মাথা নষ্ট। বাথরুম থেকে দামি সাবানগুলো, তার চাচাতো ভায়ের পাঠানো বিদেশি শ্যাম্পুগুলো সরিয়ে ফেলেন। গামছা, তোয়ালেগুলো হারিয়ে যায়। হাতমুখ মুছতে টেবিল মোছার ত্যানা এগিয়ে দিয়েছেন, এসব রেকর্ডও আছে।

আবার নতুন বা ভালো কোনো ফ্যামিলির সদস্যকে সামনে পেলেই ডেকে নেন। দামি সোফাগুলোতে বসতে দেন। আর টয়লেট দেখানোর জন্য তাগাদা দেন। কারণ এভরিথিং ফরেইন ফিটিংস।

ডাক্তার দেখাতে আক্কু মামার একজন ভাগ্নিকে নিয়ে এসেছিলেন শ^শুর তৈয়ব মিয়া। সারারাত স্টোররুমে ঘুমসিপড়া ঘরে নাতনির চিৎকার অবশ্য বড় রুমগুলোতে ঢোকেনি। ছেঁড়া মশারির ওপর নাগরিক এডিস মশারা পুনর্মিলনী উৎসব করছিল। আর চক্কর দিচ্ছিল দরিদ্রা ভাগ্নি চানমেহেরের রক্ত খাওয়ার লোভে।

পরদিন সকালে হাতমুখ ধুতে তৈয়ব মিয়া ভোরে ভুলবশত দাঁত মাজছিলেন ফেয়ার এন্ড লাভলী দিয়ে। আর সেটা মামির বদমাশ ছেলেটা আবিষ্কার করে ফেলেছে। কারণ টুথপেস্টটাও মামি টুপ করে সরিয়ে ফেলেছিলেন। তৈয়ব মিয়া পুত্রবধূর বুদ্ধির সুতোটাও ধরতে পারেননি।

বিকেলে এক কাপ চা খেতে চাইলেন তৈয়ব মিয়া।

রূপসী মামি টেবিলের সব কটা কৌটো খুলে কাজের বুয়াকে ধমকালেন- তুই আগে কইবি না? চা-পাতা নাই?

– আম্মা সকালেই তো আছিল। হেই সুময় দেখছি হুইল্যা বিলাইডা ডুকছে।

তৈয়ব মিয়া হেসে ফেলে।

আব্বা, আপনে হাসতাছুইন ক্যা?

বিলাই মিয়ার বিরাট রুচি। চা-পাতাও খায়।

মামির চোখের ভোল্টেজ থেকে বাঁচতে বুয়া নাকমুখ চেপে হাসতে গিয়ে বিষম খায়।

তৈয়ব মিয়া বেরুতে গিয়ে বাসায় আবার ফিরে আসলেন, মাইনাস করবেন বলে।

ড্রয়িংরুমে মামি তার ভাই বেরাদার, বোনের বাচ্চাদের নিয়ে চা-চক্রে ব্যস্ত।

– বৌমা, বিলাইডা চা-পাতা খায়া গেছে। আর হেইডা দিয়া চা বানায়া খাইতাছো? কুনু ঝামেলা হইলে কিতা করবা? বিলাইয়ের মুখের থুথুতে জার্ম আছে।

রূপসী মামি এবার একটু দম নিলেন- আপনেরে চা দেই একটু? টুস দেই?

– থাউক গা। বাইরে খায়া নিমু। হুদাই কষ্ট করবা ক্যা?

তৈয়ব মিয়া তার মেয়ের দিকের নাতনিটাকে নিয়ে রূপসী মঞ্জিলের বাইরে বেরিয়ে আসেন, এমন সময় চিৎকার শুনে তৈয়ব মিয়া আবারো ফিরে এলেন।

রূপসী মামির গায়ে গরম চা পুরো এক কেতলি পড়ে গেছে।

সবাই নিরাপদ দূরত্বে কেবল উপদেশ, পরামর্শ দিচ্ছে। আর সমস্বরে চিল্লাচ্ছে।

তৈয়ব মিয়া এক বাটি নারকেল তেলে চুন গুলিয়ে বৌমার দগ্ধ স্থানে লাগাতে বসে গেলেন।

আর নাতনিটা ফোনে তার মামাকে তাড়াতাড়ি বাসায় আসার জন্য কল দিচ্ছিল।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj