সূর্য ওঠার আগে

শুক্রবার, ৩১ মে ২০১৯

রফিকুর রশীদ

ধারাবাহিক উপন্যাস : ৩

ওদের হলের সামনেই এক দোকানো রেডিও বাজাছে, আর শত শত ছাত্র ঘিরে ধরে সেই ভাষণ শুনছে। ওহ্ কি গমগমে কণ্ঠ!

তুমি যে বললে আগের দিনই ভাষণ দিয়েছে!

হ্যাঁ, রেসকোর্সের সেই বক্তৃতা রেডিওতে সেদিন প্রচার করতে দেয়নি যে! তারপর?

রেডিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করে বেরিয়ে এসেছে। রেডিও সেন্টার চলবে কী করে?

বলো কী!

বাধ্য হয়ে সকালে সেই ভাষণ প্রচার করেছে রেডিওতে।

তুমিও শুনেছ?

হ্যাঁ, শুনেছি। আমি কেন শুধু, সারা দেশের মানুষ শুনেছে। ওই ভাষণ শুনতে শুনতেই দেখি তোমার ছেলে লাফাচ্ছে, গলা ফাটিয়ে ¯েøাগান দিচ্ছে জয় বাংলা। পিঠের কাছে দাঁড়িয়ে আমি খোকা বলে ডাকতেই…।

তুমিও খোকা বলে ডাকলে!

হ্যাঁ। তুমি ডাকো যে!

কবে বাড়ি আসবে খোকা?

আসবে। ঢাকার অবস্থা কী হয়, আরেকটু দেখেশুনে তারপর আসবে।

শেফালির মা ফ্যাঁচ করে একটু ফুঁপিয়ে ওঠে।

আমার তো মোটেই ভালো লাগছে না।

দেশের অবস্থা খুব খারাপ শেফালির মা। বড় রকমের গোলমাল হবে।

মারামারির একশেষ হবে।

খোকাকে ধরে আনাই তোমার ভালো ছিল।

কী মুশকিল! ধরে আনবার মতো ছোট খোকা কি আর আছে ওরা?

এতক্ষণ পর শেফালির মা আর প্রশ্ন করে না। মুজিবুর রহমান একা একাই বলেন, শেখ সাহেবের কথা কি শুনবে ইয়াহিয়া? মার্শাল ল’ তুলে নিলে তো এ দেশে কোনো আইনই থাকবে না। এই আর্মি কি ব্যারাকে ফিরে যাবে?

শেফালির মা এ সব ভারি কথার মানে বোঝে না। দু’চোখে কেবলই হাফিজুরের ছবি ভাসে। এক সময় গুমরে ওঠে কান্না। অবশেষে গুনগুনিয়ে কাঁদতেই শুরু করে। স্বামী বেচারা সান্ত¦না দেবার ভাষা খুঁজে না পেয়ে হুট করে বলেন,

দু’চার দিনের মধ্যে আমি শেফালিদের দেখতে যাব ভাবছি। তুমিও কি যাবে?

এ প্রস্তাবেরও কোনো জবাব দেয় না শেফালির মা। নীরবে উঠে স্বামীর গায়ের উপরে হালকা চাদর ছড়িয়ে দেয়। তারপর মাথায় হাত রেখে বলে,

এখন ঘুমাও।

তিন.

বাবাকে একরকম জোর করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার পর থেকে হাফিজুরের চোখের গভীরে বাবার মুখের ছবিটা প্রবলভাবে লেপ্টে থাকে। মাকে মনে পড়ে, সেটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাবার এই চেহারা সে আগে কখনো দেখেনি। পথের ক্লান্তি, ঢাকার উত্তাল অবস্থা, ছাত্রাবাসে ছেলেকে না পাবার হতাশা- সব কিছু মিলিয়ে মানুষটি কেমন যেন বদলে গেছেন। ঢাকায় আসার মানুষ তো তিনি নন। সূর্যখোলা গ্রামের ধর্মীয় শিক্ষক শেখ মোঃ মুজিবুর রহমানের কখনো ঢাকায় আসার প্রয়োজন হয়েছে, এমন কথা কেউ কোনোদিন শুনেছে! নিশ্চয় হাফিজুরের মা অনেক অনুরোধ করে কেঁদে-ককিয়ে ঠেলেগুতিয়ে তাঁকে ঢাকায় পাঠিয়েছে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য। ভেবে বিস্মিত হয় হাফিজুর রহমান- বাবার প্রস্তাব সে নাকচ করলো কোন সাহসে? এমন দৃষ্টান্ত কি অতীতে কখনো ঘটেছে? নাহ্, মনে পড়ে না হাফিজুরের। বাবা একটা কিছু আদেশে করলে সেটাকে উপেক্ষা করা বা এড়িয়ে যাবার কোনো বিদ্যে হাফিজুরের জানা ছিল না। অথচ বদলে যাওয়ার মানুষটটাকে দেখে কেমন করে যেন সাহস হলো তাঁর কথার অবাধ্য হবার, তাঁকে বুঝিয়ে সুজিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেবার। সেই থেকে শান্তি নেই হাফিজুরের মনে, স্বস্তি নেই; মনে হয় এভাবে বাবাবে একা একা ছেড়ে দেয়াটা ঠিক হয়নি। বাড়ি দিয়েই বা কী কৈফিয়ৎ দেবে মাকে! মা কি এ কথা বিশ্বাস করবে যে তার ছেলে বাপের আদেশ অমান্য করার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে?

প্রায় প্রতিদিনই ভাবে হাফিজুর, কাল সকালে উঠেই বাড়ি চলে যাবে। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো না। বাবা আদৌ বাড়ি পৌঁছুতে পেরেছে কিনা সে খবরও জানা যায়নি। দুশ্চিন্তায় হয়তো বা ঘুম নেই মায়ের চোখে। না, না, হাফিজুর বাড়ি চলে যাবে। ঢাকা থাকুক ঢাকাতেই। তার মতো অতিসামান্য এক কর্মী ঢাকায় না থাকলে কী হবে! বরং গ্রামে গিয়ে তার অনেক কিছু করার আছে। ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া অনেক টাটকা খবর সে গ্রামের মানুষকে বিশ্লেষণ করে বুঝাতে পারবে। ঢাকায় থাকতে চেয়ে সেটাই যে অধিক জরুরি, এটা বুঝবার পরও এবং যাই যাই করেও ঢাকা ত্যাগ করতে বেশ দেরিই হয়ে যায় হাফিজুরের।

মার্চের ১৫ তারিখে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় এলে কারো কারো মনে আশা জাগে হয়তো এবার একটা রাজনৈতিক সমাধান হয়ে যাবে। আসলে সংকট তো খুবই গভীরে নয়, সমাধান কঠিন বা জটিল হবে কেন! এই প্রেসিডেন্টই দীর্ঘকাল পর পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিয়েছেন। সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন দিয়েছেন। সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তাদের হাতে দেশ চালানোর ক্ষমতা হস্তান্তর করলেই তো ঝামেলা চুকে যায়। সেটাই করা উচিত প্রেসিডেন্টের, হয়তো করবেনও। মূলত বাগড়া বাধিয়েছে ভুট্টো। ক্ষমতা হস্তান্তরের সহজ প্রক্রিয়াকে অবিরাম বাধাগ্রস্ত করেই চলেছে। যতই নির্বাচিত হোক, বাঙালি নেতৃবৃন্দের হাতে পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা কিছুতেই দেবে না। কী যে অদ্ভুত আবদার তার!

প্রেসিডেন্ট নিশ্চয় এই অবুঝ আবদারে কান দিয়ে দেশকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেবেন না। হয়তো সেই জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সঙ্গে তিনি আলোচনা করতে চান। কিন্তু এই আলোচনা কিসের! ভোটের রায় হয়েছে, যারা পাস করেছে তাদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে সংসদে বসিয়ে দিলেই তো মিটে গেল। এর মধ্যে আলোচনার কী প্রয়োজন? বাঙালি নেতা তবু উদার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন- আলোচনার দুয়ার তিনি বন্ধ করতে চান না। তিনি তো সেদিন বলেই দিয়েছেন- যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, সংখ্যায় তিনি একজন হলেও বঙ্গবন্ধু তার পক্ষেই দাঁড়াবেন। সারাজীবন তো তিনি অন্যায্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেই লড়েছেন। আসলে পশ্চিমা শাসকেরা ভয় পায় বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাকে। সেই ছেষট্টি থেকে চলছে ৬ দফার আন্দোলন, এতদিন তো আলোচনার সাধ জাগেনি! বরং তারা চালিয়েছে জেলজুলুম নির্যাতন। যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বাঙালির, তারা তখন চাইছেন আলোচনায় বসতে। কী অপরিসীম ধৈর্য বাঙালি নেতার, মার্চের ১৬ তারিখে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে বসলেন আলোচনায়। এ রকম আলোচনা নাকি দিনের পর দিন আরো চলবে। হাফিজুর আশান্বিত হয় তবে কি জট খুলবে আলোচনায়! কিন্তু ১৭ তারিখ যে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন!

এ দিনও কি আলোচনা চলবে?

বাড়ি যাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে হাফিজুর পিছিয়ে আসে। চারদিকে অনেকে প্রকাশ্যেই বলাবলি করছে এ সব ফালতু আলোচনা দিয়ে কিছুই হবে না। এ হচ্ছে সময় নষ্ট করার ধান্দা। তলে তলে তারা অন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সব কথা যে বঙ্গবন্ধু মোটেই বেঝেন না এমন নয়। তবু তিনি আলোচনায় বসেন। বাঙালি শান্তিপ্রিয় জাতি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট উত্তরণেরই তাঁর বিশ^াস। তিনি চান দুনিয়ার মানুষ সেটাই দেখুক, সেটাই জানুক।

কিন্তু হাফিজুর আর কত দেখবে! তাকে যে বাড়ি যেতেই হবে! এদিকে হাফিজুরের বাড়ি যাবার কথা শুনে অতীন নামে অতি প্রিয় এক বন্ধু বায়না ধরেছে, সেও যাবে। তার বাড়ি ফরিদপুর। ঢাকা থেকে ফরিদপুর, আর কতক্ষণের পথ! নদী পেরোলেই ফরিদপুর, গেলই হয়! না সে ফরিদপুর যাবে না। যাবে মেহেরপুর। বিশাল পরিকল্পনা তার। কুষ্টিয়া-মেহেরপুরের যে কোনো সীমান্ত দিয়ে সে ইন্ডিয়ায় ঢুকে পড়বে। তারপর যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবে। কী যে সাংঘাতিক মনোবল তার, সে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলে- যুদ্ধই অনিবার্য বন্ধু। যুদ্ধ ছাড়া মুক্তি নেই। একটু আগে হোক পরে হোক, বাঙালিকে যুদ্ধে নামতেই হবে।

হাফিজুর অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে অতীনের মুখের দিকে। ভাবনা হয়, এত দৃঢ়তা সে পায় কোথায়! তবু অতীনকে ক্ষ্যাপানোর জন্য হাফিজুর বলে,

তুই কি বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বেশি বুঝিস?

সহজ উত্তর অতীনের, নাহ! তিনি আমাদের গ্রেট লিডার।

তাহলে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন না কেন?

মাথা খারাপ! পাকিস্তানের পেটের মধ্যে বসে যুদ্ধের ঘোষণা? তোর মতো মাথা মোটা নাকি!

হাফিজুর এতক্ষণে বুদ্ধিমানের মতো বলে,

তাহলে যুদ্ধটা ওরা চাপিয়ে দেবে, তারপর আমরা…

রাইট। যুদ্ধ শুরুর দায়দায়িত্ব আমরা কেন নিতে যাব!

তাহলে তুই যে আগে-ভাগে ইন্ডিয়ায় যেতে চাইছিস, সে তো যুদ্ধের জন্যই।

হ্যাঁ, যুদ্ধ আমাদের করতেই হবে। তবে সেটা হবে আত্মরক্ষার জন্য ঘুরে দাঁড়ানো।

আমি তার আগাম প্রস্তুতি নিতে চাই।

বাব্বা! যুদ্ধ যে করব আমরা, আমাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ কই? আমাদের যোদ্ধা কই? তুই কিসের প্রস্তুতি নিবি?

অতীন একটু বিরক্ত হয়ে বলে,

তোকে দিয়ে হবে না কিচ্ছু। তুই আমাকে ইন্ডিয়ায় পার করে দিবি, তাহলেই হবে। এখন চল বত্রিশ নম্বরে যাই।

বত্রিশ নম্বর ধানমন্ডি বাঙালির তীর্থভূমি। এখানেই বাস করেন বাংলার মুকুটহীন স¤্রাট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। প্রতিদিন ভোরবেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে মিছিল আসছে, মিছিলের পর মিছিল আসছে, ¯েøাগানে ¯েøাগানে মুখরিত বত্রিশ নম্বরের সবুজ প্রাঙ্গণ। দেশি-বিদেশি সংবাদিকে গিজ গিজ করছে চতুর্দিক। তিনি কখন কী সিদ্ধান্ত জানান, তার উপরে নির্ভর করছে গোটা দেেশর ভবিষ্যৎ এবং বাঙালি জাতির ভবিষ্যৎ।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে ধানমন্ডির দূরত্ব কতটুকুই বা হবে! অতীন হাতবাড়িয়ে হাফিজুরকে ডেকে আনে- চল, আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন না!

এক কথায় রাজি হাফিজুর। এত বড় মানুষের জন্মদিন কেমন করে পালন করা হয়, সে অভিজ্ঞতা তো তার হয়নি কখনো। দুই বন্ধু একত্রে রওনা হলেও সারা পথে আরো অনেক চেনা মানুষের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পথে পথে মানুষের ঢল। সবার গন্তব্য বত্রিশ নম্বর। নেতার জন্মদিন বলে তো নয়, সবার চোখে মুখে জিজ্ঞাসা- আজকের বৈঠকে কী আলোচনা হলো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে? কতদিন চলবে এই আলোচনা-আলোচনা খেলা? খেলাই তো, বাঙালির নাকের ডগায় আলোচনার মুলো ঝুলিয়ে এ এক মজার খেলা শুরু করেছে পশ্চিমের পাণ্ডবেরা। নেতা যতই ধৈর্যের পরীক্ষা দিন না কেন, সাধারণ মানুষের উত্তেজনা দিনে দিনে আকাশস্পর্শী হয়ে উঠছে। তারা তো লক্ষ্য ফাইনাল করেই ফেলেছে- ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ।’ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তবু কিসের আলোচনা?

দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা সেই আলোচনার খবর জানতে চান। বঙ্গবন্ধু জানান, আমাদের দাবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখার জন্য সময় চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট। আমি তাকে সময় দিয়েছি। তার যত খুশি বিচার বিশ্লেষণ করুন। আমাদের আর এক চুলও নড়ার ক্ষমতা নেই। দেশের সংবিধানের ভিত্তি হবে ছয় দফা।

বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে অবিচল দৃঢ়তা প্রতিধ্বনিত হয়। উপস্থিত জন সাধারণের মুহুর্মুহু ¯েøাগানে মুখর হয়ে থাকে ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর। এরই এক ফাঁকে সাংবাদিকরা জন্মদিনের অভিনন্দন জানান সংগ্রামী নেতাকে। জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কিছু বলার জন্য তারা অনুরোধ জানালে বঙ্গবন্ধু বলেন, আমি আমার জন্মদিন পালন করি না। এ দেশে প্রতিদিনই গুলি খেয়ে মানুষ মরছে। এ দেশে জন্মদিনই কী, আর মৃত্যুদিনই কী! আমার জীবনই বা কী! আমার জনগণই আমার জীবন।

আবার ¯েøাগান।

তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব।

তুমি কে, আমি কে, বাঙালি বাঙালি।

তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা।

ধানমন্ডি থেকে ফেরার পথে হাফিজুরের ডান হাত মুঠোর মধ্যে চেপে ধরে অতীন শুধায়,

আর কোনো নেতার মুখে শুনেছিস কখনো- জনগণই আমার জীবন?

হাফিজুর আরেক কাঠি বেশি এগিয়ে থাকতে চায়। তাই সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের কথা আবার তোলে সে। সাংবাদিকরা এক সময় বঙ্গবন্ধুর কাছে জানতে চায় প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনায় আপনি কি খুশি? উত্তরে তিনি বলেন, জাহান্নামে বসেও আমার চিত্তে সুখের অভাব হবে না।

অতীন সহসা নজরুলের কবিতার উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলে,

ওই যে বিদ্রোহী কবিতায় আছে না- ‘আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!’ বঙ্গবন্ধুও যেন সেই কথাটাই বলতে চেয়েছেন। সেই হসিটাই হাসতে চেয়েছেন।

হাফিজুরও সেটাই সমর্থন করে,

কত আবলীলায় বলতে পারেন- আামর চেয়ে বড় সুখে আর কে আছে? সাত কোটি মানুষ আমার পেছনে।

হ্যাঁ, এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় অহংকার। অতীন বলে, এটাই তাঁর বড় অর্জন।

হাফিজুর স্মরণ করিয়ে দেয়,

সাংবাদিকদের সামনে কেমন বুক ফুলিয়ে বললেন- আমার জীবনে সবচাইতে বড় পাওয়া আমার দেশবাসীর ভালোবাসা।

অতীন আবারও যোগ করে,

সে প্রমাণ তো খুব ভালো করেই দিয়েছে দেশর মানুষ। ভোটের বাক্সে এমন করে কি ভোট দেয় কোনো দেশের মানুষ! অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য এমন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অসহযোগ আন্দোলন করে কোনো দেশের মানুষ?

জনগণ আর কত প্রমাণ দেবে? সেই বায়ান্নো থেকে রক্ত দিচ্ছে, আর কত?

হাফিজুরের কথা শুনে অতীন খুক করে একটুখানি হেসে ওঠে। হাতের মুঠোয় আবারো হাফিজুরের হাত তুলে নিয়ে সে বলে, আরো অকে রক্ত দিতে হবে বন্ধু, তারপর মুক্তি। মুক্তির জন্য যুদ্ধই অনিবার্য। আর যুদ্ধ মানেই তো রক্তের হোলিখেলা!

ওহ, তোর মাথায় কি যুদ্ধের চিন্তা ছাড়া আর কিছু নেই?

সেদিন দূরে নয় বন্ধু, এ চিন্তা তোমাকেও করিতে হইবে। চিন্তা নয় শুধু, যুদ্ধই করিতে হইবে।

যুদ্ধের জন্য উদগ্রীব অতীনকে শায়েস্তা করার জন্য অবশেষে খুঁজে পেতে হাফিজুর এক দুর্বল জায়গা আবিষ্কার করে। (চলবে)

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj