রোজায় মুখের আলসার রোগীদের করণীয়

শুক্রবার, ৩১ মে ২০১৯

ডা. মো. ফারুক হোসেন

মুখ ও দেহের বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণে মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা ক্ষত দেখা দিতে পারে। আবার বিভিন্ন ধরনের উপাদানের অভাবজনিত কারণেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মুখের আলসার বা ক্ষতের কারণে যদি আপনি কোনো মলম বা জেল ব্যবহার করেন তবে মনে রাখবেন সাহরি খাবার পর মুখের অভ্যন্তরে কোনো মলম বা জেল ব্যবহার করা যাবে না। যদি একান্তই বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে তাহলে সাহরির শেষ সময়ের অন্তত ১০ মিনিট আগে ভালোভাবে কুলকুচি করে নিতে হবে। মুখের বিশেষ কিছু আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের কারণে পাকস্থলিতে এসিড নিঃসরণ হয়ে থাকে। তাই সাহরির সময় খাবার পর এ ধরনের ওষুধ সেবন করবেন না। এ ক্ষেত্রে ইফতারির পর অথবা রাতের খাবারের পর ওষুধ সেবন করতে হবে। মুখের আলসারের রোগীদের অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম খাবার গ্রহণ করা যেহেতু নিষেধ তাই ইফতারির পর অতিরিক্ত ঠাণ্ডা কোনো শরবত বা পানীয় পান করবেন না। টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুখের আলসার রোগীদের জেল জাতীয় টুথপেস্ট ব্যবহার না করে সাধারণ সাদা রঙের টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত। দিনের বেলায় শুধু মাত্র রোগী নয় বরং সবার জন্যই টুথপেস্ট ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ টুথপেস্ট অসাবধানতাবশত গলার অভ্যন্তরে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রোজা ভেঙে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা ব্রাশ করার সময় টুথপেস্টের স্বাদ গৃহীত হয়ে থাকে। টুথপেস্টের স্বাদ গৃহীত হলে রোজা ভাঙবে না কিন্তু মাকরুহ হবে। সম্ভব হলে মুখের আলসার রোগীদের এসএলএস মুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত। এসএলএস বা সোডিয়াম লরিল সালফেট নিজেই মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা ঘা সৃষ্টি করতে পারে।

ক্রনিক কিডনি রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার কারণেও মুখের আলসার সৃষ্টি হতে পারে। কিডনি রোগীদের মুখের আলসার বা সংক্রমণের চিকিৎসায় যথাসম্ভব এন্টিবায়োটিক পরিহার করা উচিত। মুখের কোনো তীব্র সংক্রমণের কারণে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া তা কোনোভাবেই গ্রহণ করা ঠিক নয়। কারণ কিডনি রোগীদের সব ধরনের এন্টিবায়োটিক প্রদান করা যায় না। মুখের আলসার বা মুখের ব্যথা অথবা দাঁতের ব্যথার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ট্রামাডল জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

মুখের আলসার রোগীদের অতিরিক্ত তেল দিয়ে ভাজা পোড়া জাতীয় ইফতার পরিহার করা উচিত। কোনো কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবারও মুখের আলসার রোগীদের সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে মিষ্টি জাতীয় খাবারও খেতে হবে রয়েসয়ে। ক্ষুদ্রান্তের রোগের কারণে অনেকেরই মুখে আলসার বা ঘা দেখা দিতে পারে। অনেকেরই মাত্রার অধিক প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে মুখের আলসারের তীব্রতা বেড়ে যায়। যাদের গøুটেন ইনটলারেন্স রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে গøুটেন ফ্রি খাবার বা ইফতার গ্রহণ করা জরুরি। সম্ভব না হলে প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণের পরিমাণ অবশ্যই কমাতে হবে। এলার্জির কারণে মুখের অভ্যন্তরে আলসার এবং জিহ্বায় ফোলাভাব হতে পারে। এলার্জিজনিত মুখের আলসার রোগীদের রোজায় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ওষুধের পাশাপাশি যেসব খাবার এলার্জি সৃষ্টি করে থাকে তা বর্জন করতে হবে। এ ছাড়া যেসব খাবার এসিডিক, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত অথবা লবণাক্ত সেসব খাবার বর্জন করতে হবে। এসব খাবার জিহ্বায় টেস্ট বাডগুলোর প্রদাহ সৃষ্টি করে জিহ্বায় ফুলাভাব এনে দিতে পারে। এ ছাড়াও মুখের আলসারের প্রদাহের তীব্রতা বৃদ্ধি করে। ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ম পালন করে চলতে হবে। যদি কারো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকে তাহলে লালাতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। ধারণা করা হয় যে ক্যানডিডা অ্যালবিকানস তখন এ অতিরিক্ত চিনি মুখের অভ্যন্তরে তার নিজস্ব বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে পারে। ক্যানডিডা অ্যালবিকানস ফাংগাস দ্বারা ওরাল থ্রাসের সৃষ্টি হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এ অবস্থায় খাবার গ্রহণের সময় জিহ্বায় এবং মুখে জ্বালাপোড়া হতে পারে।

সার্বিকভাবে রোজা মুখের আলসার রোগীদের জন্য খুবই ভালো। সবার জন্য তো বটেই। নামাজ মেডিটেশনের মতো কাজ করে। দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতার কারণে অনেকেরই মুখের অভ্যন্তরে আলসারের সৃষ্টি হয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এর তীব্রতা বেড়ে যায়। রোজার মাসে নামাজ ও রোজা মানব দেহে বিশেষভাবে মনে স্থিরতা সৃষ্টি করে। মানসিক প্রশান্তির কারণে মুখের আলসারের তীব্রতা অবশ্যই কমে আসবে, বিশেষ করে যে সব মুখের আলসারের কারণ সহজে নির্ণয় করা যায় না।

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj