তিন ক্যাম্পাসে ইফতার

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : ইফতার শুরু হতে বাকি আরো ঘণ্টাখানেক, এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে ইফতার আয়োজনের। প্রতিবছরই ক্যাম্পাসের বন্ধুদের আয়োজনে এ ইফতার পার্টি দেখা যায়। আর এ ইফতার পার্টির জন্য বাছাই করে নেয়া হয় ক্যাম্পাসের বিশেষ বিশেষ স্থান। সাধারণত বিভিন্ন সংগঠন, একই ব্যাচের বিভিন্ন বিভাগের বন্ধুরা অথবা একই বিভাগের ছোট বড় ভাইবোন মিলে এ ইফতার পার্টির আয়োজন করে। সূর্যটা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়তেই শুরু হয় ইফতারির প্রস্তুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রতিটি হলের সামনে ছোটখাটো ইফতারির দোকান বসে। আছরের পর পর সবাই ইফতারি কিনে আনে। প্রথম রোজা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সবুজ ক্যাম্পাসের বিভন্ন স্থানে ইফতার করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শহীদ মিনার থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদের খোলা বারান্দায়, ছেলেদের হলের সামনের ফাঁকা জায়গা, মেয়েদের হলের সামনে, হবিবুর মাঠ, শেখ রাসেল চত্বরের খোলা মাঠ, সাবাস বাংলার মাঠ, সিনেট ভবনের সিঁড়িসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় আছরের নামাজ পর পরই অনেকে ইফতারের পসরা সাজিয়ে বৃত্তাকার হয়ে বসেন। বন্ধুদের ডাকে শেখ রাসেল চত্বরে আয়োজন হয় ইফতার পার্টির।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় : প্রায় কয়েকশ শিক্ষার্থী বসে আছেন বৃত্তাকারভাবে। অন্তত পঞ্চাশটি বৃত্ত তো হবেই। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও হলের শিক্ষার্থী, জুনিয়র-সিনিয়র, ব্যাচমেট, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও জেলা সমিতির সদস্যরা। এ ছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বিভিন্ন মানুষ আসেন তাদের পরিবারকে নিয়ে। সবাই প্রায় একই রকম ইফতার নিয়ে বসে আছেন খোলা আকাশের নিচে।

শুধু অপেক্ষা আজানের। ইফতারি বলতে ছোলা, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনির চপ, মুড়ি মাখা আর শরবত। রমজান আসলেই প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের এমন চিত্রই দেখা যায়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছুটি হওয়ার পরও থেকে গেছেন অনেক শিক্ষার্থী। সারাদিন রোজা রেখে বন্ধুরা মিলে চলে আসেন মাঠে একসঙ্গে ইফতার করতে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : সূর্য প্রায় ঢলে পড়েছে পশ্চিমে। ছায়ার মধ্যে কিছুটা প্রশান্তি নেমে এসেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও ওয়াজেদ ভবনের সামনের সবুজ চত্বরে। সামনে ইফতারসামগ্রী নিয়ে সেখানে ছোট ছোট দলে গোল গোল হয়ে বসেছেন তরুণ তরুণীরা। পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই প্রতিদিন বিকালে

ছোট-বড় গ্রুপে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে বসেন ইফতার করতে। এভাবে ইফতার করার মাঝে আছে যেন আলাদা এক প্রশান্তি। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে ক্যাম্পাসের পরিবেশ কিছুটা বদলে যায়।

বিকাল গড়িয়ে বেলা বাড়তেই এই জায়গাগুলোতে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের সমাগম। কেউ কেউ আসেন নিজ নিজ সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ইফতার করতে, অনেকেই আসেন ক্লাসের বন্ধুরা মিলে ইফতার করতে, কেউবা আসেন হল বা মেসের সিনিয়র-জুনিয়ররা মিলে একসঙ্গে ইফতার করতে। সাধারণত বোতলে করে ঠান্ডা পানি, জুস, পুরনো পত্রিকা বা গামলা আর ইফতারসামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হতে থাকেন তারা।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj