পা হারাচ্ছেন ২০ যাত্রীকে বাঁচানো সেই কনস্টেবল

বুধবার, ২৯ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি ডুবতে থাকে। এ সময় উৎসুক জনতার জটলা বেঁধে গেলেও কেউ বাসের যাত্রীদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। সেদিন শুধুই ব্যতিক্রম ছিলেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। চোখের সামনে বাসটি ডুবতে দেখে ইউনিফর্ম পরেই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন ২০ জনকে। ২০১৭ সালের ৭ জুলাই ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর দুঃসাহসিক কাজের জন্য প্রশংসার জোয়ারে ভাসেন পুলিশের এ সদস্য। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেয়া হয় পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)। এ ছাড়া নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল দেন আইজিপি। তবে সাহসী সেই পুলিশ কনস্টেবল বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যানের চাপায় বর্তমানে শয্যাশায়ী। তার পরিবার জানিয়েছে, পারভেজ মিয়ার ডান পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পারভেজের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই মাসুম মোল্লা বলেন, গত সোমবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ার জামালদি বাসস্ট্যান্ডের সামনে হাইওয়ে পুলিশের সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ সেন্টারের পাশেই ডিউটি করছিলেন পারভেজ। এ সময় একটি বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ডান পায়ের গোঁড়ালি ও হাতে মারাত্মক আঘাত পান পারভেজ। পরে ‘ট্রমালিংক’র স্বেচ্ছাসেবক টিম তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পারভেজকে ঢাকার রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরো বলেন, ঢামেক হাসপাতাল থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই ভর্তি। পারভেজকে এখন পর্যন্ত ৯ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। আরো রক্ত লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পঙ্গু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পারভেজকে বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পারভেজের ছোট ভাই মহিউদ্দিন বলেন, সোমবার তার পায়ে একটি অপারেশন করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার জন্য আমরা ৯ ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেছি। সাত ব্যাগ লেগেছে, দুই ব্যাগ এখনো বাকি আছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল থেকে তার অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার ডান পায়ের হাঁটু থেকে নিচে কেটে ফেলতে হবে। আমরা চিকিৎসকদের বলেছি, প্রয়োজনে সব ব্যবস্থা করতে, পা কেটে ফেললে কৃত্রিম পা লাগানো যাবে, আমরা শুধু তাকে ফিরে পেতে চাই।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj