উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেবে এনপিও

সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট নিরসনে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও)। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার প্রতিও আগ্রহ সৃষ্টি করা হবে। এ ছাড়া প্রথাগত কৃষি উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাণিজ্যিক রূপ লাভ করায় এখাতে উৎপাদনশীলতার বৃদ্ধির বিদ্যমান সুযোগ পরিকল্পিতভাবে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে কাজে লাগানো হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় উৎপাদনশীলতা পরিষদের (এনপিসি) ত্রয়োদশ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দেশের শিল্প ও সেবাসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে কর্ম-কৌশল নির্ধারণের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এতে সভাপতিত্ব করেন। এতে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, বিদ্যুৎ, শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র, তথ্য, কৃষি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা, পরিসংখ্যান ও তথ্য যোগাযোগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেপজা, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, নাসিব ও বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশন, এপিও সোসাইটি ফর বাংলাদেশ, এনপিও, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রতিনিধিসহ কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিল্প, সেবা ও কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় জানানো হয়, বাংলাদেশে শিল্প কারখানায় উৎপাদনশীলতার হার এখনো শতকরা ৫০ ভাগের নিচে। এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে উৎপাদনশীলতার হার ৬০ শতাংশের বেশি। প্রতিযোগিতামূলক বিশ^বাজারে বাংলাদেশি পণ্য টিকে থাকার জন্য শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কারখানা ব্যবস্থাপনায় জড়িত মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, কৃষি ও শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এনপিও নির্ধারিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এনপিওর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। চামড়া শিল্প এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি ও সার শিল্প কারখানার উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় শিল্প প্রতিমন্ত্রীকে জাতীয় উৎপাদনশীলতা পরিষদের (এনপিসি) সহসভাপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদারের লক্ষ্যে বছরে চারবার এনপিসির সভা আয়োজন এবং এনপিও পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল ও সুপারিশ পরবর্তী এনপিসির সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ^বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে, খাতভিত্তিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে খাতভিত্তিক গবেষণা সেল ও পৃথক কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আয়োজন করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্পপণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও শিল্প দক্ষতা বাড়ানোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। তিনি এ দায়িত্ব পালনে এনপিসির সদস্যভুক্ত মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের পেশা দারিত্বের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের তাগিদ দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প-২০২১, রূপকল্প-২০৪১ এবং এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে সব খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কার্যকর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে শিল্পমন্ত্রী জাতীয় উৎপাদনশীলতা বার্তার (এনপিও বার্তা) মোড়ক উন্মোচন করেন।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj