জওহরলাল নেহরু

সোমবার, ২৭ মে ২০১৯

পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু (জন্ম ১৪ নভেম্বর, ১৮৮৯; মৃত্যু ২৭ মে, ১৯৬৪) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, আদর্শবাদী, পণ্ডিত এবং ক‚টনীতিবিদ নেহরু ছিলেন একজন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। লেখক হিসেবেও নেহরু ছিলেন বিশিষ্ট। ইংরেজিতে লেখা তার তিনটি বিখ্যাত বই- ‘একটি আত্মজীবনী’, ‘বিশ্ব ইতিহাসের কিছু চিত্র’ এবং ‘ভারত আবিষ্কার’ চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করেছে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন। গঙ্গা নদীর তীরে এলাহাবাদ শহরে জওহরলাল নেহরু জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৯ সালে। তার পিতা মতিলাল নেহরু ও মা স্বরুপ রানী। তৎকালীন ভারতের সব থেকে আধুনিক স্কুলে পড়ার পর প্রায় ১৫ বছর বয়সে নেহরু ইংল্যান্ডের হ্যারোতে চলে যান। ইংল্যান্ডে পড়ার সময় ভারতীয় ছাত্র সংসদের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এই সময়েই তিনি সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হন। গান্ধীর দর্শন ও নেতৃত্ব জওহরলাল নেহরুকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। নেহরু গান্ধীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাকে সাহায্য করেন। ১৯২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কংগ্রেস সভাপতি নেহরু রাভি নদীর তীরে এক জনসভায় ভারতের স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজ আন্দোলনের ডাক দেয়। লবণের ওপর করারোপ করায় নেহরু গুজরাটসহ দেশের অন্যান্য অংশে সফর করে গণআন্দোলনের ডাক দেন। ১৯৩৬ সালে নেহরু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এর ল²ৌ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তার শাসনামলে ভারতে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়। এই সময়ে ভারত-পাকিস্তান ও চীন-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভারত-পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান নেহরু-লিয়াকত চুক্তি করেন। ১৯৬৪ সালের মে মাসে কাশ্মির থেকে ফেরার পরে নেহরু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অবশেষে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে নেহরু তার কার্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন। – উইকিপিডিয়া অবলম্বনে

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj