এত ঘৃণা মানুষের মধ্যে কী করে আসে!

শনিবার, ২৫ মে ২০১৯

নাসিরুদ্দিন শাহকে অভিনয়ের পাওয়ার হাউস বললে কমই বলা হবে। শৈবাল মিত্রের ‘দেবতার গ্রাস’-এ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই প্রথম বড় পর্দায় তিনি। শুটিংয়ের এক ফাঁকে আনন্দবাজারকে দিয়েছেন সাক্ষাৎকার। মেলার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো এর চুম্বাক অংশ

সৌমিত্রের সঙ্গে কত দিনের আলাপ আপনার?

নাসিরুদ্দিন শাহ : পঞ্চাশ বছর। ‘অপুর সংসার’ দেখেছিলাম যখন, আমার বয়স তখন কুড়ি। তার পরে এত বছর লেগে গেল ওর সঙ্গে কাজ করতে। বরাবরই ওকে ভালো লাগত। কিন্তু তার চেয়েও বেশি হিংসে হতো। কারণ উনি সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করতেন। আর আমি সবাইকে বলতাম, আমাকে সত্যজিৎ বাবু কখনো কোনো ছবিতে নেন না কেন! তারা আমাকে উল্টে বলত, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় থাকতে তোমাকে নেবে কেন!

কিন্তু উনি তো আপনাকে একটি ছবিতে নেয়ার কথা ভেবেছিলেন।

নাসিরুদ্দিন শাহ : হ্যাঁ, ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’তে একটি রোলের জন্য আমাকে ভেবেছিলেন। পরে চরিত্রটি করেন ফারুখ শেখ। তবে সঞ্জীব কুমারের চরিত্রটায় আমাকে কাস্ট করতেই পারতেন (হাসতে হাসতে)। সঞ্জীব কুমার তো উর্দুও বলতে পারতেন না। পান খেতে জানতেন না, অঙ্গরাখা পরতে জানতেন না… বোধহয় দাবাটা ভালো খেলতেন!

‘দেবতার গ্রাস’-এ আপনি একজন যুক্তিবাদী উকিল, যিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লড়ছেন। গত কয়েক বছরে আপনি যে ভূমিকাটা পর্দার বাইরেও করে এসেছেন এবং তার জন্য সমস্যাতেও পড়তে হয়েছে আপনাকে।

নাসিরুদ্দিন শাহ : সে জন্যই বোধহয় চরিত্রটাকে এত ভালো লেগে গেল। ভেরি ওয়েল-রিটন ক্যারেক্টার। এই লোকটা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলছে, সেগুলো আমার নিজের কথা। আমাদের দেশেও তো একজন মন্ত্রী ক’দিন আগে বলে বসলেন, বাঁদর থেকেই যে মানুষ হয়েছে, সেটা কেউ নিজের চোখে দেখেনি। সুতরাং ডারউইনের বিবর্তনবাদ মিথ্যে! এ রকম এনকারেজিং মানুষই তো দরকার আমাদের দেশে, তাই না বলুন? ‘ইনহেরিট দ্য উইন্ড’ বা ‘দেবতার গ্রাস’ এই যুক্তিহীনতার বিরুদ্ধেই কথা বলে।

এই যুক্তিহীন তথ্য, বিভ্রান্তি, কাদা ছোড়াছুড়ি সব লেগেই আছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্বতন্ত্র ভাবনায় বাদ সাধছে ফেসবুক?

নাসিরুদ্দিন শাহ : সোশ্যাল মিডিয়া মানুষ কেন করে জানেন? একটা স্ক্রিনে নিজের নামটা দেখতে পাওয়ার জন্য। দ্যাটস দ্য থ্রিল। আমি নিজেও অভিনেতা হয়ে পর্দায় নিজের নামটা দেখার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু যাদের কোনো কাজ নেই, সোশ্যাল মিডিয়া তাদেরও এই সুযোগটা করে দিয়েছে। লোকজনকে গালিগালাজ করা, ঘৃণা ছড়ানো, অশ্লীলতা এগুলোই তাদের কাজ। এমনকি তার জন্য পয়সাও পাচ্ছে! মূর্খদের মতামত দেয়ার জায়গা হলো সোশ্যাল মিডিয়া… কিন্তু এত ঘৃণা মানুষের মধ্যে কী করে আসে বলুন তো? তার মানে এগুলো মনের ভেতরে জমা ছিলই। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেই দেখুন না! এমন সব কথা বলেন, আতঙ্ক হবে। তবু ওর একটা পিএমও আছে, সীমা লঙ্ঘন করতে পারেন না তিনি। ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আমাকেই কত লোক বলেছে পাকিস্তানে চলে যেতে!

:: মেলা ডেস্ক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj