নিয়ম-পদ্ধতি মেনে রোজার মাহাত্মœ্য অর্জন করতে হবে

শনিবার, ২৫ মে ২০১৯

রোজাদারকে রোজার সব শর্ত করণীয় জানতে হবে। এখানে গাফলতি বা উদাসীন হয়ে থাকা মানে নিজের অজান্তেই রোজাকে অন্তঃসারশূন্য শুধুই উপবাসের পর্যায়ে নামিয়ে আনা। রোজার মাহাত্ম্য অর্জনে, আত্মার প্রশান্তি মেটাতে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটাতে তাই যথাশুদ্ধভাবে রোজা রাখায় সচেষ্ট হতে হবে সর্বস্তরের রোজাদারকে। সতর্ক থাকতে হবে, সামান্য উদাসীনতায় রোজা যেন নষ্ট না হয়, ছুটে না যায় যেন একটি রোজাও- তীক্ষè দৃষ্টি থাকা চাই এদিকে। রমজান মাসে রোজা রাখা সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশ- ‘ফামান শাহিদা মিনকুমুশ্ শাহ্রা ফাল্ ইয়াসুম্হু’- অর্থাৎ যে ব্যক্তি রোজার মাসটি পাবে, তারই কর্তব্য হচ্ছে রোজা রাখা। [সুরা বাক্বারা : ১৮৫] আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনা শরিফে হিজরতের [জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে যাওয়া] আঠার মাসের মাথায় শাবান মাসে রোজা ফরজ হওয়ার এই বিধান অবতীর্ণ হয়। এ জন্য রমজান মাসের রোজা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমান জাতির জন্য ফরজে আইন। অর্থাৎ ঐশী বিধিবদ্ধ দায়িত্ব ও বিধান। রমজান মাসে পূর্ণ মাস একজন বালেগ [প্রাপ্ত বয়স্ক], সুস্থ ও বিবেকসম্পন্ন মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর রোজা রাখা ফরজ। কুরআন-হাদিস, ইজমা ও কিয়াস দ্বারা রোজার বিধান প্রমাণিত।

আল্লাহপাক কুরআন মজিদে বলেন- ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর [সুরা বাক্বারা : ১৮৩]। আল্লাহর নির্দেশিত এ রোজার বিধানকে যে অস্বীকার করবে এবং শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া যে রোজা রাখবে না, সে ফাসিক ও কবিরা গুনাহগার হবে (জঘন্য পাপী হিসেবে আল্লাহর কাছে ধিকৃত হবে)। মহানবীর (দ.) হাদিস বা বাণী থেকেও রোজার ফরজ হওয়া প্রমাণিত। হজরত আবু হোরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (দ.) বলেছেন, ‘তোমাদের নিকট রমজান মাস সমুপস্থিত। ইহা এক বরকতময় মাস। আল্লাহতায়ালা এ মাসের রোজা তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন’। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রমজান মাসের রোজা রাখাকে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ বলা হয়েছে। রোজার অতীব আবশ্যকতা তথা এ ফরজ বিধানকে গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে প্রিয় নবী (দ.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর (যৌক্তিক অপারগতা) বা রোগ ব্যতীত রমজানের একটি রোজা ছেড়ে দেবে সে যদি পরবর্তীতে সারাজীবন ধরে রোজা রাখে তবুও তার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ [হাদিসগ্রন্থ- আহমদ, তিরমিযি, আবু দাউদে এ বর্ণনা রয়েছে]।

সুরা বাক্বারার ১৮৩-১৮৪ আয়াতে আল্লাহ্র বাণী : ‘সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ ব্যাধিগ্রস্ত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এটা যাদের অতিশয় কষ্ট দেয়, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্রা- একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে সৎ কাজ করে এটা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন তথা রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রসূ যদি তোমরা জানতে।’ এই অতিশয় কষ্ট বলতে কী বোঝানো হয়েছে তা জানা থাকা দরকার। তা হচ্ছে- এমন কষ্ট যা শরিয়তের দৃষ্টিতে ওজর (বাস্তব অপরাগতা) বলে গণ্য, যেমন অতি বার্ধক্য, চিরস্থায়ী রোগ ইত্যাদি। অনুরূপ রোজা রাখতে না পারায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ‘অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান’ মানে একদিনের রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে দুই বেলা পেট ভরে খেতে দেয়া।

এ ছাড়া রোগগ্রস্ত ব্যক্তি বলতে বুঝাবে- যার রোগজনিত দুর্বলতা রয়েছে বলে রোজা রাখা অতীব কষ্টকর, তার জন্য ঐ মাসে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। পরে কাযা আদায় করলেই চলবে। রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর (সূর্যোদয়ের আগে ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে থেকে সুবহে সাদিক শুরু) পানাহার ও যৌনাচারে রোজা ভঙ্গ হবে। এখানে একটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বলা দরকার, আর তা হলো অনেক রোজাদার দেখা যায় ফজরের সময় (আজান) শুরু হয়েছে তখনো সাহ্রি খাওয়া বন্ধ করেননি। অথবা ঘুম থেকে দেরিতে ওঠে খুব তাড়াতাড়ি সাহ্রি খেতে গিয়ে ফজরের সময় হয়ে যায়।

লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ, সাংবাদিক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj