রূপপুরের দুর্নীতির বিষয়ে নজর রাখছে দুদক : দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহি করতেই হবে

বুধবার, ২২ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : দুর্নীতি করলে তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। দুর্নীতির অভিযোগে অনেক প্রভাবশালীকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পদ-পদবি কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে কাজ হচ্ছে না। আজ হোক কাল হোক দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহি করতেই হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও নরওয়ের প্রতিষ্ঠান সিএমআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইনজি অ্যামুন্ডসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এসব কথা বলেন।

দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বেসরকারি খাতের দুর্নীতির বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) ভূমিকা নিয়ে এ মতবিনিময় হয়। বৈঠকে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, সার্বিকভাবে টিআইবি ভালো কাজ করছে। তারা তাদের গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস শনাক্তকরণসহ তা নিরসনে কিছু কাজ করছে। তিনি বলেন, টিআইবির সঙ্গে দুদকের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সঙ্গে কমিশনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান। ইকবাল মাহমুদ বলেন, টিআইবি শিক্ষা, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় যেসব মেগা কর্মসূচি রয়েছে, এগুলোর প্রান্তিক পর্যায়ের কার্যক্রমের ওপর গবেষণা করতে পারে। এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি-অনিয়ম সম্পর্কে সরকারের নীতিনির্ধারকরা যেমন সচেতন হবেন, তেমনি তৃণমূল পর্যায়েও দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়বে। একইভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও টিআইবি গবেষণা করলে এ ক্ষেত্রে সরকারি পরিষেবা দেয়ার ত্রুটি-বিচ্যুতি যেমন চিহ্নিত করতে সহজ হবে, তেমনি সমাধানের গবেষণালব্ধ সুপারিশও পাওয়া যেতে পারে। সার্বিকভাবে এ ক্ষেত্রে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে টিআইবির। টিআইবিকে নির্মোহ থেকে এসব গবেষণা করতে হবে।

বেসরকারি খাতের দুর্নীতি সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ ক্ষেত্রেও দুর্নীতি রয়েছে। তবে সরাসরি এসব দুর্নীতি দুদকের তফসিলভুক্ত নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতির কোনো ঘটনা যখন ঘটে, তখন দুদকের হস্তক্ষেপ করার আইনি সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং দুদক এ দায়িত্বও পালন করছে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন ৬টি ভবনের আসবাবপত্র কেনাকাটাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি নজরে রাখছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান। গতকাল দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব বিল পরিশোধ বন্ধ রাখার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj