কদমতলীতে শারমিন হত্যা : রাজমিস্ত্রি সেজে খুনি ধরল পুলিশ

বুধবার, ২২ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : কাঁধে বেলচা, পরনে লুঙ্গি আর পায়ে ছেঁড়া স্যান্ডেল। দেখে মনে হবে মহল্লায় কাজের সন্ধানে ঘুরছেন কেউ। কিন্তু আসলে তিনি দিনমজুর বা রাজমিস্ত্রি নন, তিনি পুলিশের এসআই। একটি হত্যা মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর আসামি ধরতে এমন অভিনব ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন রাজধানীর কদমতলী থানার এসআই মো. লালবুর রহমান। দিন শেষে সফলও হয়েছেন তিনি। শারমিন আক্তার হত্যা মামলার আসামি মাসুদকে গত রবিবার অভিনব এই কৌশলে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তিনি।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ মার্চ রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ধনিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ শারমিন আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায় ঘাতক স্বামী মাসুদ হাওলাদার। ঘটনার পরদিন শারমিনের ভাই বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান কদমতলী থানার এসআই মো. লালবুর রহমান। তদন্তে নেমে শারমিন হত্যায় অভিযুক্ত ও মামলার আসামি স্বামী মাসুদ হাওলাদারের মোবাইল ট্র্যাক করার চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পান তিনি। পরে আত্মীয়-স্বজনের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে হত্যাকারীর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালান।

একপর্যায়ে নিকটাত্মীয়ের মোবাইলে তথ্য বিশ্লেষণ করে আসামির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন তদন্ত কর্মকর্তা লালবুর। জানতে পারেন, নিহত শারমিনের স্বামী মাসুদ পুরনো প্যান্ট-শার্টের ব্যবসা করতেন। এ ব্যবসার জন্য যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় দোকানের পজিশনও নিয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যবসা শুরুর আগেই স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি। পরে দোকানের পজিশনের টাকা ফেরত নিতে দোকান মালিকের পক্ষের লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় দোকান মালিক পক্ষের লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তাদের জানিয়ে সহায়তা চায় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দুপুরে খুনি মাসুদ দোকানের অগ্রিম টাকা নিতে গেলে মাসুদকে গ্রেপ্তার করেন মিস্ত্রি সেজে ঘটনাস্থল থাকা এসআই লালবুর রহমান ও এএসআই মো. জসিম।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লালবুর রহমান বলেন, মাসুদ অনেক চতুর। আশপাশে ভালো পোশাক ও চালচলনের কাউকে দেখলে দ্রুত সটকে পড়ে সে। যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করি। রাজমিস্ত্রির পোশাকে আমরা ডেমরার মিন্টু চত্বরে অবস্থান নিই। দোকান মালিক পক্ষের লোকের ওপর নজর রাখেন এএসআই জসিম। অপেক্ষার একপর্যায়ে চলে আসে সেই মোক্ষম সময়। দূর থেকে একটি লোক মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় দোকান মালিকপক্ষের লোককে সালাম দিচ্ছে। কোনো কালক্ষেপণ না করে মাসুদকে পেছন থেকে জাপটে ধরি। হঠাৎ জনসম্মুখে এমন জাপটে ধরায় স্থানীয় লোকজন জানতে চাইলে নিজের পরিচয় দিয়ে জানাই, সে হত্যা মামলার আসামি। গ্রেপ্তারের পর মাসুদ হাওলাদার গত সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ পুলিশকে জানান, হত্যার সময়ের তার চেহারা ছিল অনেক ফর্সা এবং দাড়ি-গোঁফহীন। নিজেকে গোপন রাখতে চেহারায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় রোদে সময় কাটান তিনি, যাতে ফর্সা রং কালোতে পরিণত হয়। সেই সঙ্গে বড় করেন দাড়ি-গোঁফ, যাতে পুলিশ বা অন্য কেউ চিনতে না পারে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj