প্রেমিকার বাসা থেকে প্রেমিকের মরদেহ উদ্ধার

বুধবার, ২২ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর ভাটারা থানাধীন কুড়িল এলাকায় প্রেমিকার বাসা থেকে এক প্রেমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আশিক-ই-এলাহী (২০) নামে ওই প্রেমিক একটি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিকার দাবি, আশিক আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হত্যা করা হয়েছে তাকে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে পঞ্চম সেমিস্টারে পড়–য়া আশিক ভোলা বোরহানউদ্দিন দালালপুর গ্রামের মো. সোহরাওয়ার্দীর ছেলে। রাজধানীর কুড়িলের কুড়াতলী এলাকায় থাকতেন তিনি। ৩ ভাইয়ের মধ্যে মেঝো ছিলেন আশিক। তার বড় ভাই আল আমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ¯œাতকোত্তরের ছাত্র। আর ছোট ভাই আলভী মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসায় পড়েন। এ বিষয়ে ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যে মেয়েটির বাসা থেকে আশিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই মেয়েটি তার সঙ্গেই আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে পড়ে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছেলেটি গতকাল মঙ্গলবার সকালে মেয়েটির বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি জানিয়েছে, সে প্রস্তাবে রাজি না হাওয়ায় তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়। এরপর মেয়েটি তার বাসা থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর মেয়েটি ঘরে ফিরে আশিককে কোমরের বেল্ট দিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পায়।

ওসি আরো বলেন, পরে বাড়ির মালিক পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আশিককে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। আশিকের বড় ভাই আল আমিনের বন্ধু গোলাম মুক্তাদির বলেন, সহপাঠী ফারিয়া নামের এক মেয়ের সঙ্গে গত এক-দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আশিকের। ওই মেয়ে কুড়িল পূর্বপাড়ার ওই বাসার দ্বিতীয় তলায় আরেকজন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া থাকে।

তিনি আরো বলেন, ফারিয়া গতকাল ভোরে আশিকের বড় ভাই আল আমিনকে জানায়, আশিক অনেক সিনক্রিয়েট করছে। তাকে যেন তিনি বাসা থেকে নিয়ে যান। এরপর গিয়ে আমরা এ ঘটনা দেখতে পাই। তিনি আরো বলেন, আশিকের উচ্চতা ৬ ফুট। কোনোভাবেই জানালার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করতে পারে না। বিষয়টিকে রহস্যজনক হিসেবে মনে করছে তার পরিবারের সদস্যরাও। নিহতের বড় ভাই আল আমিনের অভিযোগ, আশিক কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আশিকের সুরতহাল প্রতিবেদনে ভাটারা থানার এসআই আল আমিন কাউসার অপু উল্লেখ করেন, তার শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj