ফিনিশার মোসাদ্দেক : স্টার অব দ্য উইক

মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

প্রথমবার আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। ১৭ মে রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথম বারে মতো ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় মাশরাাফিবাহিনী। এ দিন ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ডানহাতি অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। টাইগার দলের ২৩ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার ১০ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলায় বাবার কাছে ক্রিকেট খেলার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল মোসাদ্দেক। বাবা আবুল কাশেম ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থায় চাকরি করতেন। তার খুব শখ ছিল, ছেলেদের বড় ক্রিকেটার বানাবেন। তাই সুযোগ পেলেই তিন ছেলেকে মাঠে নিয়ে যেতেন। ব্যাট, প্যাড, জুতা কিনে দিতেন। কিন্তু ২০০৮ সালে বাবাকে হারান মোসাদ্দেক। তখন তিনি পরিবারের দায়িত্বের কথা ভেবে ধরে নিয়েছিলেন, ক্রিকেটটা বোধ হয় আর খেলা হবে না। কিন্তু তার মা পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে হারিয়ে তখনো হাল ছাড়েননি। সেই থেকে মায়ের অনুপ্রেরণায় এখনো মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের । তার দেখানো পথেই এগোচ্ছেন ছোট দুই ভাই। দুজনই অলরাউন্ডার। একজন খেলেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে, আর আরেকজন খেলেন কলাবাগানে। ২০১৬ সালে ২০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিকে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ঘটে মোসাদ্দেকের। সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৩য় ম্যাচে খেলতে নেমে ১৯ বলে ১৫ রান করে তিনি। এরপর একই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ১১৯তম ওয়ানডে ক্রিকেটার হিসেবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কাছ থেকে ক্যাপ গ্রহণ করেন মোসাদ্দেক। ওইদিন আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৭ নম্বরে ব্যাটিং করে দলের পক্ষে ৪৫ বলে মহামূল্যবান ৪৫ রান তোলেন। এরপর বোলিংয়ে নেমে প্রথম বলেই হাশমতউল্লাহ শহীদির উইকেট তুলে নেন। সেদিন নির্ধারিত ১০ ওভারে তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ২/৩১। তবে এত ভালো খেলার পরের বাংলাদেশ দল ২ উইকেটে হেরে যায়। ২০১৭ সালে ১৫ মার্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় তার। টাইগার দলের ডানহাতি অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক রয়ে-সয়ে খেলার চেয়ে ঝড়ের গতিতেই খেলতে বেশি ভালোবাসেন। ১৭ মে রাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ২১০ রান। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত শুরু করেন তামিম-সৌম্য। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ৫.৩ ওভারে ৫৯ রান করলেও দ্রুত উইকেট পতনের কারণে টাইগার শিবিরে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ-সৈকতের ব্যাটে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের যখন ১৮ বলে জয়ের জন্য ২৭ রান প্রয়োজন ছিল, ঠিক ওই সময় সাহসী ব্যাট চালান মোসাদ্দেক। ক্রিজের অপর প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ তখন দর্শকের মতো তার ইনিংস উপভোগ করেন। মোসাদ্দেক ২৪ বল মোকাবেলা করে ৫ ছক্কা ও ২ চার হাঁকিয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েছেন। এ ছাড়া দুর্দান্ত জয়ের পর জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও।

:: কামরুজ্জামান ইমন

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj