লাটিম বা লাট্টু : দেশি খেলা

মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

লাটিম বা লাট্টু গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি খেলা। আগের মতো এখন আর কাউকে লাটিম খেলতে দেখা যায় না। নানা ঋতুভিত্তিক মেলায়ও খেলনা-পসরায় লাটিম তেমন দেখা যায় না। গ্রামের ছোট দোকানঘরের কাচের বয়ামে এখন আর লাটিম সাজিয়ে রাখতেও দেখা যায় না। মূলত কাঠ দিয়ে গোল করে বানানো হয় লাটিম। গোলাকার এ বস্তুটির ওপর সুতা বা ‘লেত্তি’ আটকানোর জন্য খাঁজ কাটা থাকে। নিচের অংশে থাকে লোহা আটকানো। আগে ছুতার মিস্ত্রিরাই কিশোরদের লাটিম বানিয়ে দিত। তারা সাধারণত পেয়ারা ও গাব গাছের ডাল দিয়ে এই লাটিম তৈরি করত। নির্বাচিত পাট থেকে লাটিমের জন্য লতি বা ফিতা বানানো হতো। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তুলাজাতীয় নরম কাঠ দিয়ে লাটিম এবং গেঞ্জির কাপড় দিয়ে লাটিমের ফিতা বানানো হয়। খেলার শুরুতে সমতল ভূমিতে একটি বৃত্ত আঁকা লাটিম খেলা সাধারণত দুই রকমের। বেল্লাপার ও ঘরকোপ। বেল্লাপারে একটি দাগ কেটে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। ঘূর্ণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্ধারণী খেলায় যে পরাজিত হয় তার লাটিমকে অন্য প্রতিযোগীরা নিজেদের লাটিম দিয়ে আঘাত করে দাগের বাইরে বের করে দেয়। ঘূর্ণায়মান লাটিম হাতে নিয়েও প্রতিযোগী লাটিমকে আঘাত করা যায়। মাটিতে রাখা লাটিমকে আঘাত করতে ব্যর্থ হলে আবার ওই ব্যর্থ লাটিমকে রাখা হয়। একইভাবে ওই লাটিমে আঘাত করে বেল্লাপার করা হয়। শর্ত অনুসারে সীমানা পার করা লাটিমকে নিজের লাটিম কিংবা দা দিয়েও কোপ দেয়া যায়। ঘরকোপ খেলতে প্রথমে একটি বৃত্ত আঁকা হয়। নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে বৃত্তের ভেতরে লাটিম ফেলে রাখা হয়। অন্য প্রতিযোগীরা বৃত্তের ভেতরের লাটিমকে নিজের লাটিম দিয়ে আঘাত করাই হচ্ছে এ খেলার উদ্দেশ্য। অনেক সময় লাটিমের আঘাতে অন্যের লাটিম ভেঙেও যায়। কোনো খেলোয়াড় অন্যের লাটিম ভাঙতে পারলে অন্যরা তাকে বাহবা দেয়। এজন্য লাটিমের আল সুচালো করতে পছন্দ করে খেলোয়াড়রা। এ ছাড়াও কে কতক্ষণ সময় ধরে লাটিম ঘোরাতে পারে সে প্রতিযোগিতাও হয় শিশু-কিশোরদের মধ্যে। গ্রামের অনেক শিশু-কিশোরই মাটিতে ঘুরানো লাটিম অদ্ভুত কৌশলে হাতের তালুতে তুলে নিলেও তা ঘুরতে থাকে। হাতের তালুতে লাটিম ঘোরানোর প্রতিযোগিতায়ই কখনো কখনো মেতে ওঠে গ্রামের ছেলেরা।

:: ক্রীড়া প্রতিবেদক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj