কৃষি শুমারির তথ্য সংগ্রহ শুরু ৯ জুন

সোমবার, ২০ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : মাঠ পর্যায়ে কৃষি শুমারির তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে আগামী ৯ জুন থেকে। চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে সারাদেশের শহর ও পল্লী এলাকায় শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ লক্ষ্যে বিভাগীয় ও জেলা সমন্বয়কারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

গতকাল তিনদিনের এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. রইছউল আলম মণ্ডল এবং কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বক্তব্য রাখেন জাতীয় কৃষি শুমারি-২০১৯ এর সমন্বয়ক বিবিএসের মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. জাফর আহমেদ। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। এ জন্য সুন্দর একটি জায়গা খুঁজে বের করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা দেন। তাহলে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যেতে পারব। আমরা চাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সেন্টার অব এক্সিলেন্সি হিসেবে গড়ে উঠুক। প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই চান বেশি বেশি গবেষণা হোক।

মন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো সংস্থার তথ্যের গ্যাপ কমিয়ে আনতে হবে। যেমন ধানের উৎপাদন ও বাস্তবতার হিসেবের মধ্যে ফারাক থাকে। সেটি কমিয়ে আনতে হবে। কৃষি শুমারি সঠিকভাবে করতে হলে টিম ওয়ার্ক করতে হবে। আপনারা প্রশিক্ষণ নেবেন। তারপর কাজ করবেন নিজেদের জন্য, দেশের জন্য। কাজকে নিজের ভাবতে হবে। তদারকি ঠিকমতো করতে হবে।

গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ক্রটি তুলে ধরুন। ক্রটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটা ভুল হলে বা অবহেলা হলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অধিক কাজ করতে হবে। সমাজে অন্যায় আছে তা অস্বীকার করার

সুযোগ নেই।

অনেক সময় আইন দিয়ে অন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সেগুলো ধীরে ধীরে দূর করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ধারাবাহিকভাবে কৃষি শুমারির কার্যক্রম চলবে। প্রথম প্রথম জোনাল অপারেশন শুরু হয়েছে গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় জোনাল অপারেশন গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। শুমারির প্রস্তুতি শুরু হয় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শুমারির প্রশিক্ষণ ১৯ মে থেকে শুরু হয়ে ১ জুন পর্যন্ত চলবে। আর মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে ৯ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, তথ্যের গড়মিল দূর করা প্রয়োজন। নিরাপদ ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের চেষ্টা চলছে। তবে সেটি সহজ কাজ নয়। ধীরে ধীরে সম্ভব হবে। এ ছাড়া বর্তমানে ধানের দাম যে কম এটি একটি মধুর বিড়ম্বনা। কেননা উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. রইছউল আলম মণ্ডল বলেন, কৃষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ব্যাপক অবদান থাকলেও সেটির সঠিক হিসাব অর্থনীতিতে আসে না। আশা করছি কৃষি শুমারিতে এসব তথ্য যথাযথভাবে আসবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj