পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ থামছে না

রবিবার, ১৯ মে ২০১৯

আরিফ হোসেন রাজীব : কিছুতেই রক্তক্ষরণ থামছে না পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের। টানা দরপতনের বৃত্তে আটকে আছে দেশের পুঁজিবাজার। নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হলেও তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না পুঁজিবাজারে। গত কয়েক কার্যদিবস লেনদেন কমতে কমতে আটকে গেছে ২০০ কোটির ঘরে। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। এতে কমেছে অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। ফলে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা কমেছে। এ নিয়ে টানা সাত সপ্তাহ ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছিল ৩৫ পয়েন্ট। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা চার দিন পুঁজিবাজারে সূচকের নি¤œমুখী ধারা বজায় থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড কমিশন। বৈঠকে পুঁজিবাজার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে এমন খবরেই এ দিন ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে দেশের দুই পুঁজিবাজার। তবে আশা জাগানিয়া খবর হচ্ছে, পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা পুঁজিবাজারের ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ ও তারল্য সংকট কাটাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগে গণনায় সংশোধনী এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় এখন থেকে ব্যাংকের একক ও সমন্বিত হিসাবে অ-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের বিনিয়োগ সমন্বয় করা হবে না। গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন ডিওএস সার্কুলার নং-২ জারি করেছে, যা বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখ আছে, সরকারসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত এবং পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তালিকাভুক্ত নয় এরূপ সিকিউরিটিজে (ইক্যুইটি শেয়ার, নন কনভার্টেবল কিউমিউলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টেবল বন্ড, ডিভেঞ্চার, ওপেন-ইন্ড মিউচুয়াল ফান্ড) ব্যাংকের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ হিসাবায়নের অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের ডিওএস সার্কুলার নং-০২ এর ২ (২)নং ক্রমিকের নির্দেশনার সঙ্গে নি¤েœাক্ত নির্দেশনাটি নতুনভাবে যুক্ত হবে। (ঙ) পুঁজিবাজুারে তালিকাভুক্ত নয় এরূপ ইক্যুইটি শেয়ার, নন-কনভার্টেবল কিউমিউলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টেবল বন্ড, ডিভেঞ্চার, ওপেন-ইন্ড মিউচুয়াল ফান্ড। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারকে গতিশীল করবে বলে মনে করছেন ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক মো. রাকিবুর রহমান। তিনি বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ডিএসই ব্রোকারর্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাকিল রিজভী, এ ব্যাপারে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে। তারা চাইলে বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj