বাড়তি আমদানিতে ছোলার পাইকারি বাজারে মন্দা

রবিবার, ১৯ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : প্রতি বছর রোজায় দেশের বাজারে ছোলার চাহিদা বেড়ে যায়। বাড়তি চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে রোজার আগেই প্রয়োজনীয় ছোলা আমদানি করেন দেশীয় আমদানিকারকরা। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। রোজা শুরুর আগেই বাড়তি ছোলা আমদানি হয়েছে। পাইকারি আড়তগুলোয় মজুদ রয়েছে পর্যাপ্ত ছোলা। সেই তুলনায় পণ্যটির বেচাকেনা বাড়েনি। সরবরাহ বেশি থাকায় দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে। এ কারণে এবারের রোজায় আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করছেন ছোলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তগুলো ঘুরে গতকাল অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ছোলা ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। রোজা শুরুর আগের সপ্তাহে পণ্যটি মণপ্রতি ২ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ছোলার দাম সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা কমেছে। অন্যদিকে রোজা শুরুর আগে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা প্রতি মণ ছোলা বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ টাকায়। গতকাল পণ্যটি ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ছোলার দাম মণে ১৫০ টাকা কমেছে। অন্যান্য বছর যেখানে রোজা শুরুর পর ছোলার বাজার ক্রমেই চাঙ্গা হয়ে ওঠে, সেখানে এবারের রোজায় পণ্যটির দাম রয়েছে কমতির দিকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রোজা শুরুর আগে পাইকারি বাজারে ছোলা বেচাকেনা বেশি হয়। এ সময় পণ্যটির দামও বাড়তে শুরু করে। রোজার সময়ও ছোলার বেচাকেনা ও দাম দুইই চাঙ্গা থাকে। তবে চলতি বছর রোজা শুরুর আগে থেকেই পাইকারি বাজারে কাক্সিক্ষত পরিমাণে ছোলা বেচাকেনা হয়নি। বেচাকেনায় মন্দাভাবের জের ধরে পণ্যটির দামও কমে আসে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছোলার বাড়তি আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুদ। এ কারণে অবিক্রীত ছোলা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা বাড়তি ছোলা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

ট্যারিফ কমিশন ও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টন। এর মধ্যে ৮০-৯০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকে শুধু রোজা কেন্দ্র করে।

রোজা সামনে রেখে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) দেশীয় আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার টন ছোলা আমদানি করেছেন। অর্থাৎ এবারের রোজায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫৩ হাজার টন বাড়তি ছোলা আমদানি হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ডাল মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন বলেন, প্রতি বছর দেশের বাজারে যেখানে ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় দেড় লাখ টন, সেখানে এবারের রোজাতেই ১ লাখ ৪০ হাজার টনের বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে। মূলত আমদানিকারক, ব্যবসায়ী এবং আমদানিসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতি থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাড়তি ছোলা আমদানি করা হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালেও রোজা সামনে রেখে দেশের বাজারে বাড়তি ছোলা আমদানি করা হয়েছিল। ওই সময় আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হয়েছিলেন।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj