অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

রবিবার, ১৯ মে ২০১৯

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে উইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। বৃষ্টির বাগড়া, ২৪ ওভারে ২১০ রানের চোখরাঙানির চ্যালেঞ্জ উড়ে গেল সৌম্য সরকারের বিধ্বংসী শুরু আর মোসাদ্দেক হোসেনের দাপুটে ফিনিশিংয়ে। টাইগারদের ঐতিহাসিক এ সাফল্যগাথা ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জয়ের আনন্দে ভাসছে দেশবাসী। দেশের সোনার ছেলেদের নিপুণ ক্রিকেটশৈলীতে আমরাও উল্লসিত। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পর নেমেছিল বৃষ্টি। খেলা বন্ধ থাকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময়। পরে বৃষ্টি থামলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ২৪ ওভারে। দুই ওপেনার শাই হোপ ও সুনীল আমব্রিসের ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত এক উইকেটে ১৫২ রান তোলে উইন্ডিজ। কিন্তু বৃষ্টি-আইনে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ২১০ রান। টি-টোয়েন্টির জামানায় পুরো ৫০ ওভারে তিনশোর্ধ্ব ইনিংস তাড়া করার চেয়ে অপেক্ষাকৃত সহজ অবশ্যই। তবু বাংলাদেশ কবে টি-টোয়েন্টিতে বলে-কয়ে দুইশ রান করেছে? তাই শঙ্কা ছিল। অবশেষে সব আশঙ্কার অবসান হলো। সৌম্যর দারুণ শুরু আর মোসাদ্দেকের আধিপত্যময় ফিনিশিংয়ে এ লক্ষ্যই পূরণ হয়ে যায় ২২.৫ ওভারের সময়। এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজ মিলিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আগের ছয়টি ফাইনালের প্রতিটিতেই হেরেছে টাইগাররা। আগের ছয় ফাইনালের তিনটিতে প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, দুটিতে শ্রীলঙ্কা ও একটিতে পাকিস্তান। উপমহাদেশের বাইরের কোনো দলের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম ফাইনাল। লিগ পর্বে উইন্ডিজকে দুবার যথাক্রমে আট ও পাঁচ উইকেটে হারানোয় ফাইনালে বাংলাদেশই ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। শেষ পর্যন্ত ফেভারিটের মতোই জিতল বাংলাদেশ। স্বীকার করতেই হবে, বিশ্বকাপের আগে টাইগারদের ক্রিকেট জ্ঞান-ধ্যান, সাহস, টেকনিক, আত্মবিশ্বাস ও দায়-দায়িত্ব অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর পেছনে বোর্ড, ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফের অবদান অনস্বীকার্য। ডাবলিনে এই জয় একটি মাইলফলক অর্জন। তবে এই জয়ের আনন্দে আত্মহারা হলে চলবে না, আত্মবিশ্বাস আরো বাড়াতে হবে। এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগানোর দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে। আসন্ন বিশ্বকাপে বিজয়ের ধারা যেন অব্যাহত রাখা যায় সেই চেষ্টা থাকতে হবে। প্রমাণ করতে হবে আমরা পারি, যে কোনো অবস্থানে যে কোনো পরিবেশে। এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক- এই প্রত্যাশা ও শুভকামনা আমাদের।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj