বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত : পদ্মা নদীতে স্থাপন হচ্ছে প্রথম ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট

শনিবার, ১৮ মে ২০১৯

ওবায়দুর রহমান : বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে বাংলাদেশ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস সৌর শক্তি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে সৌর শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। এবার উন্মুক্ত জলাশয়ে ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে একটি প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ নিয়ে কাজ করছে টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)।

ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের পদ্মা নদীতে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পটির প্রস্তাব দিয়েছে। ডাইনামিক এনার্জি নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি স্রেডার কাছে প্রস্তাব দেয়। এর পর স্রেডা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে যোগাযোগ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্রেডার সদস্য যুগ্ম সচিব সেলিমা জাহান ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা বেশ আগে থেকেই ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট নিয়ে কাজ করছিলাম। এমন সময় দুইটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দেয়। এর একটি উর্মি ওভারসিজ। এরা নারায়ণগঞ্জের পাগলার লেগুনে এবং যশোরের ভৈরব নদীতে ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট বসাতে চায়। অন্যটি হলো ডাইনামিক এনার্জি।

স্রেডা সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের প্রকল্প এর আগে নেয়া হয়নি। যার কারণে বিভিন্ন অনুমোদনের বিষয়ে সমস্যা হচ্ছে। যেমন নদী তীরে কোনো ভাসমান পল্টুন নির্মাণের অনুমতি দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। আবার বালুমহালের ইজারা দেয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন। তবে নদীবক্ষে ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য নদীর জলভাগ ব্যবহারের অনুমতি কে দিবে সে বিষয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। আবার ইজারার মূল্য নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা। ফলে প্রকল্পটি শুরু করতে সময় লাগছে।

সেলিমা জাহান বলেন, আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নতুন একটি কাজ করতে গেলে নানা প্রতিবন্ধকতা আসবে এটা মেনে নিয়েই আমরা কাজ করছি। আশা করছি প্রকল্পটি শুরু করতে পারলে এ ধরনের আরো অনেক প্রকল্প চালু করা যাবে। যার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের যে লক্ষমাত্রা আমাদের আছে সেটি পূরণ করা যাবে। একই সঙ্গে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতাও অনেকাংশে কমে আসবে।

এদিকে, সিঙ্গাপুরের সৌর জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্বব্যাংক সাম্প্রতিক এক গবেষণার সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। ডেনমার্কের জ্বালানি খাত ব্যবস্থাপনা সহায়তা কর্মসূচির অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণায় ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় ভাসমান প্রযুক্তির। বর্তমানে চীনের এক কেন্দ্র থেকেই আসছে দেড়শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৪ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভাসমান সৌর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০০ গুণ।

এদিকে, সুমইসোল নামের আন্তর্জাতিক একটি সোলার সিস্টেম কোম্পানি জানিয়েছে, একই ভৌগোলিক অবস্থানে ছাদের ওপর নির্মিত সোলার সিস্টেমের চেয়ে সাগরে নির্মিত সোলার সিস্টেম ৫-১০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

এটা হয় পানির থেকে নির্গত ঠাণ্ডা পরিবেশ এবং সূর্যের আলোর নিরবচ্ছিন্ন প্রতিফলনের জন্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রযুক্তি নদীমাতৃক বাংলাদেশে ব্যবহার করা হলে একদিকে যেমন বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব সবুজ শক্তি উৎপাদনে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে যাবে যা পরিবেশকে বাঁচাবে ভয়াবহ দূষণের হাত থেকে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj