চিকিৎসা পাচ্ছে না এলাকাবাসী : পটিয়ার বুধপুরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ২৮ বছর পরিত্যক্ত

শনিবার, ১৮ মে ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বুধপুরা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ২৮ বছর ধরে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হাসপাতালটিতে এখন কোনো চিকিৎসক নেই। এই হাসপাতাল পরিত্যক্ত হওয়ায় বুধপুরাসহ আশপাশের ১২-১৪ গ্রামের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সামান্য অসুস্থতার জন্য এই এলাকার মানুষকে ছুটতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা চট্টগ্রাম শহরে।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর এই হাসপাতালটি থেকে বুধপুরা, পিঙ্গলা, পেরপেরা, কাশিয়াইস, আশিয়া, বাকখাইন, ভাণ্ডারগাঁও, কর্তালা, বেলখাইনসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেতেন। হাসপাতালটিতে এক সময় চিকিৎসকের রাতযাপনেরও ব্যবস্থা ছিল। ’৯১-এর ঘূর্ণিঝড় ও এর আগের বন্যায় বিধ্বস্ত এই হাসপাতালটির সংস্কার না হওয়ায় এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটিতে কোনো চিকিৎসক না থাকায় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অল্প দূরে অবস্থিত পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের একটি কক্ষে সপ্তাহে একদিন একজন নার্স দিয়ে হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। এই হাসপাতালের নামে ১ একর জমিও রয়েছে আর সে কারণে সংস্কার করে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে- এমন দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন বরাবরে আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

ওই এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা অসিত কান্তি বর্ধন ভোরের কাগজকে বলেন, ৯১’র আগে যখন এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ছিল, তখন বুধপুরাসহ আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা পেতেন। ঘুর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এলাকার মানুষকে বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা চট্টগ্রাম শহরে ছুটতে হয়। অথচ এই হাসপাতালটি সংস্কার করে চিকিৎসক নিয়োগ করা হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাবে। সরকার চিকিৎসা সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। আর সে কারণে এটি করা দরকার।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দীকি ভোরের কাগজকে বলেন, বুধপুরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা অবহিত। এরকম আরো কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি রয়েছে চট্টগ্রামে। সবগুলোর তালিকা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। হাসপতাল ভবন হলে সেখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj