পাকিস্তানের আকাশ ভারতের জন্য বন্ধ ৩০ মে পর্যন্ত

শনিবার, ১৮ মে ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভারতীয় বিমানের প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা আছে, আগামী ৩০ মে পর্যন্ত তা না ওঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা পাকিস্তান বুধবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জানিয়েছে এনডিটিভি। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের ‘প্রশিক্ষণ শিবিরে’ ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলার পর পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা সবার জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। এক মাস পর, ২৭ মার্চ থেকে অন্য সব বিমানের জন্য ইসলামাদ আকাশসীমা খুলে দিলেও নয়া দিল্লি, ব্যাংকক ও কুয়ালা লামপুরের ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে।

‘ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা খুলে দেয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বুধবার প্রতিরক্ষা ও বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ৩০ মে পর্যন্ত পাকিস্তানি আকাশসীমায় ভারতের বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে,’- বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) এমনটাই বলেছেন পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বুধবারের বৈঠকের সিদ্ধান্ত বৈমানিকদেরও জানিয়েছে, বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে বিমানচালকদের অবহিত করতে কর্তৃপক্ষ একটি নির্দেশনাও জারি করেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানের সরকার ৩০ মের পর ভারতীয় বিমানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে। এ সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী লোকসভা নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছিলেন।

‘ভারতের নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত এটি বজায় থাকবে। নির্বাচন শেষে একটি নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত আমি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা দেখছি না। যে কারণে একে অপরের আকাশসীমায় দেয়া নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহালই থাকবে,’ পিটিআইকে বলেছিলেন ফাওয়াদ।

ভারতও তার আকাশসীমায় পাকিস্তানি বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় ইসলামাবাদকে ব্যাংকক ও কুয়ালা লামপুরের ফ্লাইটও বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ কারণেও প্রতিদিন পাকিস্তানকে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ব্যাংকক ও কুয়ালা লামপুরের ফ্লাইট বন্ধ রাখায় এ পর্যন্ত কয়েক কোটি রুপি লোকসান গুনতে হয়েছে বলে পিটিআইকে জানিয়েছেন পিআইয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ‘আমাদের কেবল বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তা-ই নয়, অন্য এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে যাত্রীও হারাতে হচ্ছে,’- বলেছেন তিনি। বিষয়টির এখনই ফয়সালা হওয়া প্রয়োজন বলেও মত তার।

‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যদি সড়ক ও রেল যোগাযোগ বহাল থাকতে পারে তাহলে বিমান পথে কী সমস্যা,’ প্রশ্ন ওই কর্মকর্তার।

গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পথের মাঝে পাকিস্তানের অবস্থান; ভারতগামী অসংখ্য বিমান সরাসরি এই দেশটির ওপর দিয়েই চলাচল করে থাকে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। পাকিস্তানি আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারত থেকে ইউরোপ ও দূর-প্রাচ্যগামী বিমানের কেবল আর্থিক লোকসানই বাড়েনি, সময়ও বেড়েছে। এয়ারলাইন্সগুলোকে তাদের টিকেটের মূল্যও বাড়াতে হয়েছে। পাকিস্তান অবশ্য এপ্রিলের মাঝামাঝি তাদের ১১টি বিমান চলাচল পথের একটি ভারত থেকে পশ্চিমমুখী বিমানগুলোর জন্য খুলে দেয়; এয়ার ইন্ডিয়া ও তার্কিশ এয়ারলাইন্স তখন থেকেই এ সুবিধা ব্যবহার করছে। কিন্তু এ রুট ব্যবহার করে ঘোরা পথে বেশি সময় ব্যয় করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালন ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। ভারতের রাষ্ট্র মালিকানাধীর সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া লিমিটেড পরিচালিত এ এয়ারলাইন্সটি দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল পরিমাণ লোকসানে ধুঁকছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj