কমেছে পেঁয়াজের দাম : মাছ মাংস ও সবজির দাম অপরিবর্তিত > সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণ

শনিবার, ১৮ মে ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে পাঁচ টাকা। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে অধিকাংশ সবজি, মাছ ও মাংসের দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, রামপুরা, মালিবাগ, হাজীপাড়া, খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায় ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি করছেন ২৫-৩০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৩৫ টাকা। শান্তিনগর বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা। অর্থাৎ পাইকারিতে প্রতিকেজি ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৩-২৪ টাকায়। আগের সপ্তাহে পাইকারিতে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের পাল্লা বিক্রি হয় ১২৫-১৩০ টাকায়। সে হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে দুই টাকা।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, রোজার আগে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা করে বেড়েছিল। ধারণা ছিল রোজায় পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে। তবে নতুন করে দাম না বেড়ে হঠাৎ করেই দাম কমেছে। রোজায় এবার পেঁয়াজের দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। তাছাড়া বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম কমেছে বলে মনে হচ্ছে। শান্তিনগরের ব্যবসায়ী মো. সবুর বলেন, এবারই প্রথম রোজায় পেঁয়াজের দাম না বেড়ে উল্টো কমেছে। আড়ত থেকে কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছি বলে বিক্রিও করছি কম দামে।

এদিকে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বাজার ও মানভেদে কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা কেজি, শসা ৪০-৫০, বেগুন ৬০-৭০, পাকা টমেটো ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজির মধ্যে পটোল ৪০-৫০, বরবটি ৬০-৭০, লতি ৭০-৮০, করলা ৬০-৭০, ধুন্দুল ৬০-৭০, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাকরোল ৬০-৮০, ঝিঙ্গা ৫০-৭০, শিম ৪০-৬০, গাজার ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের সপ্তাহের মতো ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকা কেজি দরে। লাল লেয়ার মুরগির ১৮০-১৯০ এবং পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকা কেজিতে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫২৫-৫৫০ আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি। শান্তিনগর বাজারের মাংস ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে গরুর মাংস ৫২৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে রামপুরা মোল্লা বাড়ি ও হাজীপাড়া বৌ-বাজারে কোনো ব্যবসায়ীকেই মূল্য তালিকা টাঙ্গাতে দেখা যায়নি। এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা গরুর মাংস ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেয়া দামের বেশি মূল্য নেয়ার কারণ জানতে চাইলে হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. খালেদ বলেন, আমাদের গরু কিনতে খরচ বেশি হচ্ছে। গরু আনতে যে ব্যয় হচ্ছে তাতে মাংসের কেজি ৫৫০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাই ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। কে কী বলল তা দেখার সময় আমাদের নেই। এই দামে যার খুশি কিনবে। আমরা কাউকে জোর করে মাংস ধরিয়ে দিচ্ছি না। এদিকে কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তেলাপিয়া মাছ আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকা কেজি। রুই ২৮০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৫০০-৮০০, শিং ৫০০-৬০০ এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকা কেজি।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj